
লখনউ: উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ফের (UP STF encounter)এক কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে এনকাউন্টারে নিকেশ করেছে। সুলতানপুরের বাসিন্দা সিরাজ আহমদ, যার নামে ৩০টিরও বেশি মামলা ছিল এবং মাথার দাম ছিল ১ লক্ষ টাকা, সাহারানপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে, যখন এসটিএফের টিম গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে গাঙ্গোহ এলাকায় তাকে আটকাতে যায়।
কিন্তু সিরাজ এবং তার সঙ্গী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, জবাবি গুলিতে সিরাজ গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে মৃত ঘোষিত হয়। তার সঙ্গী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।সিরাজ আহমদের অপরাধের ইতিহাস ভয়ঙ্কর। সুলতানপুরের লোলেপুর গ্রামের বাসিন্দা এই ৩৬ বছরের যুবকের নামে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, গ্যাংস্টার অ্যাক্ট এবং এনএসএ-র মতো গুরুতর মামলা রয়েছে বিভিন্ন জেলায়।
ডায়মন্ড হারবারকে হারিয়ে কুলদাকান্ত শিল্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল ২০২৩ সালের ৬ আগস্টের ঘটনা সুলতানপুরের ভুলকি ক্রসিংয়ের কাছে অ্যাডভোকেট আজাদ আহমদকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যার মূল অভিযুক্ত ছিল সিরাজ। সেই ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল, এবং তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, সে মুক্তার আনসারির গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত থেকে এসে সাহারানপুরে বড় অপরাধের পরিকল্পনা করছিল।
এনকাউন্টারের পর সিরাজের দেহ সুলতানপুরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যা সবাইকে চমকে দিয়েছে, তা হল তার জানাজায় উপস্থিতি। সোমবার সন্ধ্যায় সুলতানপুরে তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন কেউ বলছেন চার হাজারেরও বেশি। রাস্তায় লোকে লোকারণ্য, অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে একজন কুখ্যাত অপরাধী, যে আইনের চোখে পলাতক এবং হত্যাকারী, তার জানাজায় এত ভিড় কেন?
কেউ কেউ বলছেন, এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভয় বা সমর্থনের প্রতিফলন, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের ছায়া।যোগী আদিত্যনাথের সরকারে উত্তরপ্রদেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। গত কয়েক বছরে শত শত গ্যাংস্টার এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে, যা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ।
এডিজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) অমিতাভ যশ বলেছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সিরাজের জানাজার এই ভিড় সমাজের একটা অংশে অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি বা ভয়ের ইঙ্গিত দেয়। অনেকে মনে করছেন, এটি পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু এনকাউন্টার নয়, সমাজ থেকে অপরাধের মূল উৎপাটন করতে হবে।




