উন্নাও ধর্ষণ মামলায় বড়সড় মোড়। বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত রাখার যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছিল, সোমবার তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে সেঙ্গারকে। একই সঙ্গে পকসো (POCSO) আইনের অধীনে ‘জনসেবক’ (Public Servant) বা পাবলিক সার্ভেন্টের সংজ্ঞা নিয়ে গভীর আইনি প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ-র একটি বেঞ্চ সিবিআই-এর আবেদনের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই মামলায় আইনের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে আছে যা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, পকসো আইনে একজন বিধায়ককে জনসেবকের আওতায় রাখা হবে কি না, তা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে শীর্ষ আদালত।
বেঞ্চের মন্তব্য ছিল, “আমরা চিন্তিত যে এই আইনের অধীনে একজন কনস্টেবল যদি জনসেবক হিসেবে গণ্য হন, তবে একজন বিধায়ক কেন সেই তালিকার বাইরে থাকবেন?”
সিবিআই-এর যুক্তি
সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, “এটি একটি নাবালিকাকে ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা। অভিযুক্ত কেবল একজন অপরাধীই নন, তিনি সেই অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন বিধায়ক ছিলেন।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে, যখন কোনো ব্যক্তি প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে এমন অপরাধ করেন, তখন সেটি ‘অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট’ বা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। মেহতার কথায়, “আমরা ওই শিশুটির কাছে দায়বদ্ধ।”
বিতর্কের মূলে কী?
গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে তাঁকে জামিন দিয়েছিল। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল যে, পকসো আইনের ৫(সি) ধারা অনুযায়ী জনসেবকের যে সংজ্ঞা, তার মধ্যে বিধায়করা পড়েন না। এই যুক্তিকেই চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় সিবিআই। সিবিআই-এর দাবি, জনসেবক হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন সেঙ্গার।
প্রেক্ষাপট
২০১৭ সালে উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে ২০১৯ সালে কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও দিল্লি হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ১০ বছরের সাজা চলায় তিনি এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছিলেন না। সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই নির্দেশের পর তাঁর সাজা স্থগিতের প্রক্রিয়াও থমকে গেল।
