পুলিশ কর্মীকে গুলি করে পলাতক জৈশ জঙ্গি! উধমপুর ঘিরে ফেলেছে সেনা

Assam Unrest Prompts Army Presence in West Karbi Anglong
Assam Unrest Prompts Army Presence in West Karbi Anglong

জম্মু ও কাশ্মীরের উদমপুর জেলায় ফের জঙ্গি দমন অভিযানে তীব্রতা বাড়াল নিরাপত্তা বাহিনী (Udhampur Terror Encounter)। মঙ্গলবার ভোর থেকে উদমপুরের মাজালতা এলাকার সোন গ্রামে তিন জঙ্গির খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। একদিন আগেই এই এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন এক পুলিশকর্মী। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তিন জঙ্গি পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোন গ্রামে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়েই বিশেষ অভিযান দল (SOG), সেনা এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী গ্রামটি ঘিরে ফেলে। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ হঠাৎ করেই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করলে শুরু হয় দু’পক্ষের তীব্র সংঘর্ষ। এই গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি আহত হয় এবং দুই পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে একজন, ২২তম ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমজদ আলি খান গুরুতর আহত হন।

   

রাসেলের শূন্যতা পূরণে নাইটদের নতুন এই পাওয়ার হিটারকে চিনে নিন

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অমজদ আলি খানকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হন তিনি। এই ঘটনায় গোটা পুলিশ মহল এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার উদমপুর জেলা পুলিশ লাইনে শহিদ পুলিশকর্মীর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নালিন প্রভাত-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা।

জম্মু জোনের আইজি ভীম সেন টুটি জানিয়েছেন, প্রাথমিক সংঘর্ষের পর জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত ঘন জঙ্গলের এলাকা। সেখানে এখনও তিন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। অভিযান চলছে এবং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছিয়ে যাব না।” তিনি আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যার গোয়েন্দা তথ্য পুরোপুরি নির্ভুল ছিল এবং সেই কারণেই জঙ্গিদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

মঙ্গলবার সকাল হতেই নতুন করে অভিযান শুরু করা হয়। রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ফের তল্লাশি শুরু হয়। স্নিফার ডগ, ড্রোন এবং অতিরিক্ত বাহিনী নামানো হয়েছে এলাকায়। পুরো অঞ্চল ঘিরে ফেলা হয়েছে যাতে জঙ্গিরা পালিয়ে যেতে না পারে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, উদমপুরের বাসন্তগড় এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি অনুপ্রবেশের একটি পরিচিত রুট। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাথুয়া অঞ্চল দিয়ে পাকিস্তান থেকে ঢুকে এই পথ ব্যবহার করেই জঙ্গিরা ডোডা, কিশতওয়ার হয়ে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে এগিয়ে যায়। অতীতেও এই এলাকায় একাধিক জঙ্গি সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর স্পষ্ট বার্তা—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। শহিদ অমজদ আলি খানের আত্মবলিদানকে স্মরণ করে বাহিনীর মনোবল আরও দৃঢ় হয়েছে বলেই জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন