নয়াদিল্লি: এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন৷ তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (MBZ) সোমবারের দিল্লি সফর ঘিরে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহল। কোনো কোনো রিপোর্ট বলছে তিনি ছিলেন মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, আবার কেউ বলছে ৩ ঘণ্টা। কিন্তু এই টুকু সময়েই যে বড় কোনো কূটনৈতিক চাল চালল ভারত ও আমিরশাহি, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
কেন এই সফর ঘিরে এত গুঞ্জন?
সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর একদিন বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয়। কিন্তু এমবিজেড তাঁর সরকারের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে দিল্লিতে নামেন বিকেল ৪টেয় এবং ফিরে যান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই। নেটিজেনদের মতে, পুরো ক্যাবিনেট নিয়ে এত কম সময়ের জন্য আসা অত্যন্ত “জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ” কিছু ঘটার ইঙ্গিত দেয়। অনেকে একে ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির ‘কৌশলগত গভীরতা’ বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
সন্ত্রাসবাদ ও প্রতিরক্ষা: কড়া বার্তা পাকিস্তানকে? UAE President MBZ brief visit
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদসহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের কড়া নিন্দা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিবৃতিতে বলা হয়েছে কোনো দেশই যেন জঙ্গিদের মদত বা অর্থ সাহায্য না দেয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির (যেখানে এক দেশকে আক্রমণ করলে অন্য দেশ এগিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে) পালটা হিসেবেই ভারত ও আমিরশাহির এই ঘনিষ্ঠতা। সৌদি-পাক জোটের আবহে আমিরশাহির এই দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১২টি বড় ঘোষণা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি
সফরের সময়কাল ছোট হলেও কাজের তালিকা ছিল দীর্ঘ। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই সফরে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব: দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সই হয়েছে লেটার অফ ইনটেন্ট (LoI)।
পরমাণু সহযোগিতা: অসামরিক পরমাণু ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
জ্বালানি চুক্তি: এইচপিসিএল (HPCL) এবং আবুধাবির আডনক (ADNOC) গ্যাসের মধ্যে বড়সড় ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি।
সৌদি-আমিরশাহি দ্বন্দ্বের ছায়া?
ওপেক প্লাস (OPEC+) থেকে শুরু করে ইয়েমেন ইস্যু, বিভিন্ন বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরশাহির দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি ইয়েমেনের একটি বিমানঘাঁটিতে আমিরশাহির ‘গোপন কারাগার’ চালানো নিয়ে সৌদি সমর্থিত সরকার অভিযোগ তোলায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে ভারতের সঙ্গে এমবিজেড-এর এই নিবিড় বৈঠক বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় ভারত এখন আমিরশাহির অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত সহযোগী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (X) হ্যান্ডেলে আমিরশাহি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে খুশি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, এমবিজেড-ও জানিয়েছেন যে দুই দেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
