আমেরিকার সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল (Daniel P. Driscoll) ভারত সফরে এসে পৌঁছেছেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ভারত–আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক মহলের বিশেষজ্ঞরা। ভারতে পৌঁছানোর পর তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ড্যান ড্রিসকলের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর।
সূত্রের খবর, এই সফরে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন সেনা সচিবের। দ্বিপাক্ষিক (Daniel P. Driscoll) সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ড্যান ড্রিসকলের (Daniel P. Driscoll) এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ক্রমশ আরও মজবুত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনা সচিবের উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার সিকিউরিটি এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ভারত যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, সেখানে আমেরিকার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর স্বাগত ভাষণে জানান, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা একটি দৃঢ় অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, ড্যান ড্রিসকলের এই সফর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
ড্যান ড্রিসকল(Daniel P. Driscoll) নিজেও সফরকে ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী বলেও জানান মার্কিন সেনা সচিব।
