মসজিদ উচ্ছেদে পুলিশকে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

turkman-gate-stone-pelting-arrests-mcd-drive

নয়াদিল্লি: দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে ফাইজ-এ-এলাহি মসজিদ সংলগ্ন (Turkman Gate)এলাকায় এমসিডি-র অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের সময় পাথর ছোড়া এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিরা কাশিফ, মহম্মদ কাইফ, মহম্মদ আরিব, আদনান এবং সমির।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে আরও অনেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শিগগিরই আরও গ্রেফতারি হতে পারে।ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সকালে। মুন্সিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি) তুর্কমান গেটের কাছে অবৈধ নির্মাণ এবং দখল উচ্ছেদ করতে বুলডোজার নিয়ে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এর তীব্র বিরোধিতা করে।

   

ইস্ট-মোহন উচ্চারণে হোঁচট, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে বাংলার পাঠ দিল তৃণমূল

অভিযোগ, অভিযান শুরু হতেই জনতার একটা বড় অংশ জড়ো হয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি, বুলডোজার এবং কর্মীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট-পাথর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়। আহত হন কয়েকজন পুলিশ কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা। অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় এমসিডি।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় দাঙ্গা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই ধারাগুলোই প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কারা পাথর ছুড়ছেন, কারা উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়েছে, সেগুলোতেও অনেকের মুখ স্পষ্ট।

পুলিশের সাইবার টিম সেগুলো বিশ্লেষণ করে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করছে। এক আধিকারিক বলেন, “যারাই এই সহিংসতায় জড়িত, কাউকে ছাড়া হবে না। আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অবশ্য অন্য অভিযোগ। তাঁরা বলছেন, অভিযানের আগে যথাযথ নোটিস দেওয়া হয়নি। অনেকের বাড়ি-দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে ছাড়পত্র ছাড়াই।

এক মহিলা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে আছি। হঠাৎ বুলডোজার এনে সব ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু পাথর ছোড়ার সঙ্গে আমাদের যোগ নেই।” স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, অভিযানে গরিব-দুঃস্থ মানুষদেরই বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন।রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তর্ক।

বিজেপি শাসিত এমসিডি-র অভিযানকে ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ বলে সমর্থন করেছে। দলের নেতারা বলছেন, দিল্লির রাস্তা-ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে এটা ‘গরিব-মুসলিম বিরোধী’ নীতির অংশ। তারা বলছে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযান করে মেরুকরণের চেষ্টা চলছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন