
ওয়াশিংটন: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য ঘনীভূত করল পরিস্থিতি (Trump new tariff on India)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানালেন ভারত যদি মার্কিন বাজারে ‘রাইস ডাম্পিং’ চালিয়ে যায়, তবে তিনি এর বিরুদ্ধে “কঠোর ব্যবস্থা” নিতে বাধ্য হবেন। তাঁর কথায়, “হ্যাঁ, এবার এরও খেয়াল রাখতে হবে।” অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ (new tariff on India) যে এখন হোয়াইট হাউসের টেবিলে, তা আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘটে হোয়াইট হাউসে কৃষি বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে। উপস্থিত ছিলেন লুইজিয়ানা, টেক্সাসসহ মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলের খ্যাতনামা চাল উৎপাদকরা। লুইজিয়ানার কৃষক মেরিল কেনেডি অভিযোগ করেন ভারত, থাইল্যান্ড এবং চিন মার্কিন বাজারে বিপুল পরিমাণ চাল পাঠিয়ে দাম ভেঙে দিচ্ছে। তার ফলেই ক্ষতির মুখে মার্কিন রাইস ইন্ডাস্ট্রি। অভিযোগটি শোনার পর ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করেন, “ভারতকে এটা করতে দেওয়া হচ্ছে কেন? ওদের কি এই বাজারে কোনো বিশেষ শুল্ক ছাড় দেওয়া আছে?”
PAN কার্ড ১০ মিনিটে! ঘরে বসেই পান ই-প্যান, জানুন পুরো প্রক্রিয়া
উত্তরে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, তাঁরা এখনও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় রয়েছেন, এবং বিষয়টি জটিল। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ভারতের বিরুদ্ধে WTO-তেও একটি মামলা ঝুলে রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের জোরালো মন্তব্য “ডাম্পিং করছে যারা, তাদের উপর আর একদফা শুল্ক বসালেই সমস্যার সমাধান। এটা এক দিনের মধ্যেই ঠিক করে ফেলতে পারি।” তাঁর বক্তব্যে কোনও রাখঢাক নেই। বোঝাই যাচ্ছে, তিনি প্রয়োজন মনে করলে ভারতকে কঠিন অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে পিছপা হবেন না।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৪–১৫ অর্থবর্ষেই ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২.৩৪ লক্ষ টন চাল রফতানি করেছিল। মার্কিন কৃষকরা দাবি করছেন এখন সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে, এবং ভারত সস্তা দামে চাল পাঠিয়ে মার্কিন উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এমনকি ট্রাম্পের অতীত রেকর্ডও এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। এর আগে তিনি ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক ছাপ ফেলেছিল। তাই নতুন সিদ্ধান্ত নিলে তা যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে প্রশ্ন হচ্ছে যদি ট্রাম্প সত্যিই নতুন শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ভারতের কী পরিস্থিতি হবে?
ভারতের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাজারে চালের রফতানির উপর শুল্ক চাপলে সরাসরি ক্ষতি সীমিত হতে পারে, কারণ ভারত মার্কিন বাজারে খুব বড় অংশ দখল করে না। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে পড়ে দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
অন্যদিকে ভারতীয় বাণিজ্য দফতর এখনও ট্রাম্পের মন্তব্যের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু দক্ষিণ ব্লকের ভেতরের সূত্রের দাবি ভারত আপাতত পরিস্থিতি দেখছে। ডাম্পিং-এর অভিযোগ নস্যাৎ করতে ভারত যে WTO–তেও প্রস্তুত, সেটি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন কৃষক মহলে চাপ বাড়ছেই। তাঁরা দাবি করছেন যদি আমেরিকাকে চাল উৎপাদনে টিকে থাকতে হয়, তবে “ডাম্পিংকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।” এই দাবিই ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একদিকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে, অন্যদিকে এর মাঝেই ট্রাম্পের শক্ত ভাবমূর্তি ফিরে আসছে আন্তর্জাতিক আলোচনায়। এখন দেখার এই উত্তপ্ত অবস্থায় ভারত কীভাবে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা জানতে হলে নজর রাখতে হবে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে।








