টঙ্ক (রাজস্থান): নববর্ষের উৎসবের দিনেই বড়সড় নিরাপত্তা আতঙ্ক (explosive)ছড়াল রাজস্থানে। ৩১ ডিসেম্বর বুধবার সকালে টঙ্ক জেলার বারোনি থানা এলাকায় একটি মারুতি সিয়াজ গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক। ইউরিয়া সারের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ছিল এই বিপজ্জনক বিস্ফোরক। এছাড়া গাড়ি থেকে মিলেছে ২০০টি বিস্ফোরক কার্তুজ এবং ছয় বান্ডিল সেফটি ফিউজ তার, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,১০০ মিটার।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর পেয়ে টঙ্ক জেলার ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল টিম (ডিএসটি) অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে সুরেন্দ্র পাটোয়া এবং সুরেন্দ্র মোচি। দু’জনেই বুন্দি জেলার বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা বুন্দি থেকে টঙ্কের দিকে এই বিস্ফোরক নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
মরশুমের শীতলতম কলকাতা, নববর্ষে ঘন কুয়াশা ও তুষারপাতের পূর্বাভাস
অবৈধভাবে সরবরাহের উদ্দেশ্যে এই পরিবহন হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টঙ্কের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মৃত্যুঞ্জয় মিশ্র জানান, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মারুতি সিয়াজ গাড়ি থেকে ১৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়েছে, যা ইউরিয়া সারের বস্তায় লুকানো ছিল। এছাড়া ২০০টি কার্তুজ এবং ১,১০০ মিটার ফিউজ তার মিলেছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্ত চলছে কোথা থেকে আসছে এই বিস্ফোরক, কোথায় যাচ্ছিল এবং উদ্দেশ্য কী ছিল।” গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।এই ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক কারণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক উপাদান, যা সার হিসেবে ব্যবহার হলেও অপব্যবহারে ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। চলতি বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতেও এই একই বিস্ফোরক ব্যবহার হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
নববর্ষের উৎসবের মরশুমে এমন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক হয়ে উঠেছে। রাজস্থান পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ খনন কার্যে এই বিস্ফোরক ব্যবহার হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে অন্য কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা বড় নাশকতার ছক কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এবং তাদের নেটওয়ার্কের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
