বিড়ি-সিগারেটের দাম বাড়ছে! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ চাষিকূল

নয়াদিল্লি: আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত (excise duty)পণ্যের উপর নতুন করে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সরকারের দাবি, ধূমপান ও তামাক সেবনের…

tobacco-excise-duty-hike-impact-farmers-india

নয়াদিল্লি: আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত (excise duty)পণ্যের উপর নতুন করে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সরকারের দাবি, ধূমপান ও তামাক সেবনের প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে শুধু সিগারেট, বিড়ি বা গুটখা ব্যবহারকারীরাই নয় চিন্তায় পড়েছেন দেশের হাজার হাজার তামাক চাষিও। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ‘ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ফার্মার অ্যাসোসিয়েশন’ (FAIFA)।

Advertisements

FAIFA-র দাবি, নতুন করে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হলে ভারতের তামাক চাষিরা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়বেন। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্নাটক ও গুজরাট এই চার রাজ্যে মূলত তামাক চাষের উপর নির্ভর করে লক্ষাধিক পরিবার। সংগঠনের বক্তব্য, সরকার আগে যে Revenue-neutral বা ‘রাজস্ব-নিরপেক্ষ’ কর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

   

অনবদ্য লড়াই, নীতার বিপক্ষে ৫-০ গোলে জয়ী ইস্টবেঙ্গল

চাষিদের আশঙ্কা, তামাকজাত পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেলে বৈধ বাজারে বিক্রি কমে যাবে। তার ফলস্বরূপ চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা তামাক কেনার চাহিদা কমবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাবেন না, অন্যদিকে পুরো কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে। FAIFA জানিয়েছে, এমনিতেই গত কয়েক বছরে তামাক চাষিরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং বাজারের ওঠানামার সঙ্গে লড়াই করছেন। নতুন করের বোঝা সেই সংকট আরও বাড়াবে।

আরও একটি বড় আশঙ্কার কথা তুলেছে FAIFA অবৈধ তামাকজাত পণ্যের রমরমা। সংগঠনের মতে, ভারতের বাজার ইতিমধ্যেই চোরাই সিগারেট ও গুটখায় ভরে গিয়েছে। শুল্ক বাড়লে বৈধ পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, ফলে সাধারণ ক্রেতারা কম দামের অবৈধ পণ্যের দিকে ঝুঁকবেন। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে, পাশাপাশি বৈধ শিল্প ও চাষিরা দু’দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গত মাসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, ‘চিউইং টোব্যাকো’, জর্দা এবং গুটখার ক্ষেত্রে প্যাকিং মেশিনের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে আবগারি শুল্ক নির্ধারণ করা হবে। সিগারেটের ক্ষেত্রে স্টিকের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী ১,০০০ স্টিক প্রতি শুল্ক ধার্য হয়েছে ২,০৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত। এই হিসেব অনুযায়ী বাজারে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে ১৮ টাকার সিগারেটের প্যাকেট নাকি ৭০ টাকারও বেশি দামে বিকোতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এই দাবির সত্যতা স্বীকার করা হয়নি, তবুও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সরকারের যুক্তি, তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবহার কমবে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমবে। কিন্তু তামাক চাষিদের বক্তব্য, নীতি তৈরির সময় তাঁদের কথা শোনা হয়নি। FAIFA স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু এমন নীতি চাই যা চাষিদের জীবিকা ধ্বংস না করে।

এই পরিস্থিতিতে তামাক চাষি সংগঠনগুলি সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি তুলেছে। তাঁদের মতে, বিকল্প ফসল, ধাপে ধাপে কর বৃদ্ধি এবং অবৈধ বাণিজ্য রোধ এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা না করলে সংকট আরও গভীর হবে। এখন দেখার, সরকার চাষিদের এই সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব দিয়ে শোনে।

Advertisements