আইপ্যাক কাণ্ডে শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ! শতাব্দী-মহুয়াদের চ্যাংদোলা করে সরালো পুলিশ

TMC protest outside Home Ministry

দিল্লি: আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে শুক্রবার কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির নর্থ ব্লক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন তৃণমূলের একঝাঁক শীর্ষ সাংসদ। ডেরেক ও’ব্রায়েন থেকে মহুয়া মৈত্র, একের পর এক সাংসদকে আক্ষরিক অর্থেই ‘চ্যাংদোলা’ করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।

কেন এই বিক্ষোভ?

তৃণমূলের অভিযোগ, আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নির্বাচনী রণনীতি এবং গোপন তথ্য ‘চুরি’ করার উদ্দেশ্যেই ইডি-কে লেলিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। শুক্রবার সকাল থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে ধর্নায় বসেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল এবং শর্মিলা সরকারের মতো সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে এই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বন্ধ করতে হবে।

   

দিল্লি পুলিশের সক্রিয়তা ও ধস্তাধস্তি TMC protest outside Home Ministry

ধর্না শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। ১৪৪ ধারা জারির দোহাই দিয়ে সাংসদদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু তৃণমূল সাংসদরা অনড় থাকলে পুলিশ বলপ্রয়োগ শুরু করে।

ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রকে পুলিশ পাঁজাকোলা করে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যায়।

শতাব্দী রায় এবং প্রতিমা মণ্ডলকে কার্যত টেনে-হিঁচড়ে ভ্যানে তোলা হয়। আটক করার পর তাঁদের সবাইকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নেতাদের হুঁশিয়ারি

আটক হওয়ার সময় মহুয়া মৈত্র গর্জে উঠে বলেন, “এই বিজেপি-কে আমরা হারিয়েই ছাড়ব। দেখুন কীভাবে জন প্রতিনিধিদের সাথে আচরণ করছে দিল্লি পুলিশ।” অন্যদিকে কীর্তি আজাদের দাবি, “গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করার হিম্মত নেই বিজেপির, তাই এজেন্সি দিয়ে ভোট জিততে চাইছে।” শতাব্দী রায়ের কটাক্ষ, “১০ বছরে অমিত শাহের কিছু মনে পড়েনি, ভোটের সময় সব মনে পড়ছে।”

“গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে”: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লির এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে (X) সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এটাই বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’। প্রতিবাদীদের জেলে পাঠিয়ে ধর্ষকদের জামিন দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, বাংলা এই বলপ্রয়োগের সামনে মাথা নত করবে না এবং শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে।

শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা কটাক্ষ

এই নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল দুর্নীতি এবং অপরাধের সাথে সমার্থক হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আইপ্যাক অফিসে গিয়ে ইডির কাজে বাধা দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি কতটা মরিয়া। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ওদের চিনে গিয়েছে, তাই এখানে বিক্ষোভ করার সাহস নেই বলে দিল্লিতে নাটক করছে।”

এখন দেখার, এই ‘তথ্য চুরি’র অভিযোগ এবং দিল্লি-কলকাতার এই দ্বিমুখী সংঘাত আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে।

Bharat: Mahua Moitra Derek OBrien detained, I-PAC raid protest Delhi, Abhishek Banerjee reaction TMC MPs, Amit Shah office dharna, Delhi Police action on TMC leaders, TMC election strategy data theft.

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন