তেলেঙ্গানায় শেষ মাও আতঙ্ক! মূলস্রোতে হিদমা ঘনিষ্ট

telangana-maoist-leader-deva-surrenders-police

তেলেঙ্গানা: সিপিআই (Maoist leader) পার্টির জন্য বিরাট ধাক্কা। পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বাদসে সুক্কা ওরফে দেবা-সহ ২০ জন আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাডার তেলেঙ্গানা পুলিশের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৩ জানুয়ারি হায়দ্রাবাদে তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিজি শিবধর রেড্ডির সামনে তারা আত্মসমর্পণ করে।

এই ঘটনা মাওবাদী সংগঠনের তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটি এবং পিএলজিএ-র জন্য মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন স্টেট কমিটি সদস্য কঙ্কনালা রাজি রেড্ডি ওরফে বেঙ্কটেশ। তারা ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২২০০-র বেশি গুলি এবং ২০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিয়েছেন।বাদসে সুক্কা ওরফে দেবা ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার পুভার্তি গ্রামের বাসিন্দা।

   

জম্মু-কাশ্মীরের শিক্ষাঙ্গনে বন্ধের মুখে রাষ্ট্রগান!

তার মাথার দাম ছিল ৭৫ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি নিহত শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমার সমকক্ষ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত দেবা পিএলজিএ-র সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ছিলেন। ২০০৩ সালে সিপিআই (এমএল) পিপলস ওয়ার গ্রুপে যোগ দিয়ে তিনি সামরিক কৌশল, বিস্ফোরক তৈরি এবং আইইডি ব্যবহারে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

হিদমার পর তিনিই ছিলেন মাওবাদীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী নেতা। পুলিশের মতে, দেবা একাধিক বড় হামলার সঙ্গে যুক্ত যেমন ২০১৩-র ঝিরাম ঘাটি অ্যামবুশ, যেখানে ২৭ জন কংগ্রেস নেতা নিহত হন। তিনি দান্ডকারণ্য অঞ্চলে মাওবাদীদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছিলেন।আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পিএলজিএ, তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটি, দক্ষিণ সাব-জোনাল ব্যুরো এবং দান্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্যরা রয়েছেন।

মহিলা ক্যাডার এবং মেডিকেল-লজিস্টিক ইউনিটের সদস্যরাও আছেন। ডিজি শিবধর রেড্ডি বলেন, “এই আত্মসমর্পণ পিএলজিএ-র শেষ ব্যাটালিয়নের পতন এবং তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটির ধ্বংসের সংকেত। এখন মাত্র একজন সিনিয়র সদস্য আন্ডারগ্রাউন্ড রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, হিদমা এবং দেবার সঙ্গে যুক্ত অস্ত্রের ডাম্পও জমা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় এই ২০ জনকে মোট ১.৮২ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রত্যেককে অন্তর্বর্তীকালীন সাহায্য হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি সুবিধা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, নথিপত্র যাচাইয়ের পর শীঘ্রই দেওয়া হবে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীরা সম্মান এবং নিরাপত্তার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন।

এই আত্মসমর্পণের পিছনে রয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশের গ্রেহাউন্ডস ফোর্সের অবিরাম অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য এবং শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান। সম্প্রতি হিদমা নিহত হওয়ার পর মাওবাদী সংগঠনে অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি এবং তরুণ ক্যাডারদের প্রতিরোধ এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। ২০২৫ সালে তেলেঙ্গানায় ৫০৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যার মধ্যে ছত্তিশগড়েরই বেশিরভাগ। এই ঘটনা মাওবাদী আন্দোলনের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গানা সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ায় অনেকে মূলধারায় ফিরছেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন