ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য, সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় শীর্ষ নেতার মৃত্যু

সিরিয়ায় (Syria) তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এক আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে হত্যা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই জঙ্গি নেতা সরাসরি যুক্ত…

14-syrian-police-officers-killed-in-ambush-by-assad-loyalists

সিরিয়ায় (Syria) তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এক আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে হত্যা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই জঙ্গি নেতা সরাসরি যুক্ত ছিলেন গত মাসে সংঘটিত সেই প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে, যেখানে দুই মার্কিন সেনা এবং এক মার্কিন নাগরিক দোভাষী নিহত হন। এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও স্পষ্ট বার্তা দিল মার্কিন বাহিনী বা নাগরিকদের উপর হামলার মূল্য চুকোতেই হবে।

Advertisements

মার্কিন (Syria) সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় চালানো বিমান হামলায় নিহত হয়েছে বিলাল হাসান আল-জাসিম। CENTCOM-এর মতে, আল-জাসিম ছিলেন “অভিজ্ঞ সন্ত্রাসবাদী নেতা”, যিনি একাধিক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং গত ১৩ ডিসেম্বরের হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওই হামলায় মার্কিন সেনা সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টোরেস-টোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং মার্কিন নাগরিক দোভাষী আয়াদ মানসুর সাকাত নিহত হন। (Syria) মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের সেই হামলাটি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর এক সদস্য পরিচালনা করেছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, ওই হামলার নেপথ্যে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ এই নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এই তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়।

   

এই অভিযানের পর এক বিবৃতিতে CENTCOM-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “তিনজন আমেরিকানের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত একজন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা আমাদের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ। (Syria) যারা আমাদের বাহিনীকে আক্রমণ করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কোনওভাবেই ছাড় দেব না।” তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, “যারা আমেরিকান নাগরিক বা আমাদের সেনাদের উপর হামলা চালায়, তাদের জন্য পৃথিবীর কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। আমরা তাদের খুঁজে বের করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের উদ্দেশেই নয়, বরং গোটা সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের জন্য একটি কড়া বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র দেখাতে চাইছে, সিরিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনও অঞ্চল কোনও জায়গাই সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ নয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী এবং জিহাদি সংগঠনগুলির তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে আসছে। সামরিক সূত্র বলছে, এই তৃতীয় দফার হামলাটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক, যাতে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

সিরিয়ার (Syria) জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেও মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। একদিকে ইসলামিক স্টেট প্রায় পরাজিত হলেও, তাদের ছায়া সংগঠন ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলি এখনও সক্রিয়। অন্যদিকে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলিও সুযোগ খুঁজে হামলার পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই ধরনের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য শুধুই প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যতে হামলার সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। বিলাল হাসান আল-জাসিমের মৃত্যু সেই দিক থেকে একটি বড় সাফল্য বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন নেতার মৃত্যুতে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি থেমে যাবে না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

Advertisements