
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট (POCSO) আইনে ‘রোমিও-জুলিয়েট ক্লজ’ প্রবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছে, যাতে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সত্যিকারের সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপরাধীকরণ থেকে রক্ষা করা যায়। এই প্রস্তাবে কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে যে, POCSO আইনের অপব্যবহার হচ্ছে এবং এতে অনেক যুবক-যুবতী অন্যায়ভাবে জেল খাটছে।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং এন কোটিসওয়র সিং-এর বেঞ্চ ৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর একটি রায়ে এই পর্যবেক্ষণ করেছে, যা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।POCSO আইন ২০১২-এর অধীনে ১৮ বছরের নীচে যেকোনো যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়, সম্মতি থাকলেও।
I-PAC তল্লাশি ঘিরে বিপাকে ইডি, অফিসারদের বিরুদ্ধে FIR পুলিশের!
ফলে অনেক ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ককে পরিবার বিরোধিতা করে POCSO-র মামলা দায়ের করে। আদালতের মতে, মেয়ের পরিবার যখন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিতে পারে না, তখন তারা POCSO আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
এতে অনেক যুবক জেলে পচছে, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচারপতি করোল রায়ের পোস্ট-স্ক্রিপ্টে বলেছেন, “POCSO মামলাগুলোতে মেয়ের পরিবারের আপত্তির কারণে ছেলেরা জেলে যাচ্ছে এটা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”’রোমিও-জুলিয়েট ক্লজ’ মূলত আমেরিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে চালু আছে। এতে কাছাকাছি বয়সের (close-in-age) কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ককে অপরাধমুক্ত করা হয়, যাতে তারা statutory rape-এর অভিযোগে শাস্তি না পায়।
সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের একটি বিধান POCSO-তে যোগ করার জন্য কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে। আদালত বলেছে, এতে আইনের অপব্যবহার রোধ করা যাবে এবং যারা মিথ্যা অভিযোগ করে স্কোর সেটল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা যাবে। রায়ের একটি কপি আইন সচিবকে পাঠানো হয়েছে, যাতে সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়।এই পর্যবেক্ষণের পিছনে একটা আকর্ষণীয় সময়ের সংযোগ রয়েছে।
কয়েক মাস আগে, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইন্দিরা জয়সিং, যিনি একটি PIL-এ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে কাজ করছেন, সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেছিলেন যে, সম্মতির বয়স ১৮ থেকে ১৬-এ নামানো হোক। তিনি বলেছেন, ১৬-১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপব্যবহার বলে গণ্য করা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
কেন্দ্র সরকার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে, বলেছে এতে শিশু শোষণের দরজা খুলে যাবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এখন ‘রোমিও-জুলিয়েট ক্লজ’-এর মাধ্যমে একটা মধ্যপন্থা সাজেস্ট করেছে, যা বয়স না কমিয়েও সমস্যা সমাধান করতে পারে।










