এবার শীর্ষ আদালত খোলা থাকবে মাঝরাতেও

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারব্যবস্থাকে আরও সাধারণ (Supreme Court)মানুষের কাছাকাছি এনে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে গভীর রাত…

supreme-court-midnight-access-cji-surya-kant

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারব্যবস্থাকে আরও সাধারণ (Supreme Court)মানুষের কাছাকাছি এনে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে গভীর রাত বা মধ্যরাতেও সুপ্রিম কোর্টের দ্বার খোলা থাকবে। যাঁরা হঠাৎ গ্রেফতারির মুখে পড়ছেন বা গুরুতর আইনি জরুরি পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁরা দিনের নির্দিষ্ট কাজের সময়ের অপেক্ষা না করেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন।

Advertisements

প্রধান বিচারপতির কথায়, “আদালত মানে কেবল নির্দিষ্ট সময়ে খোলা একটি প্রতিষ্ঠান নয়। আদালত হবে প্রকৃত অর্থে মানুষের আদালত যেখানে মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রয়োজন হলে সময় কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে বিচারব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

   

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কমিশন কি করছে তা ‘ফাঁস’ করলেন অভিষেক

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ আদালতের কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তব জীবনে বহু আইনি সংকট তৈরি হয় রাতের অন্ধকারে হঠাৎ গ্রেফতার, বেআইনি আটক, জরুরি অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রয়োজন কিংবা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। এতদিন এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কার্যত অসহায় বোধ করতেন। প্রধান বিচারপতির এই ঘোষণায় সেই শূন্যস্থান পূরণ হতে চলেছে বলেই মত আইনজীবী মহলের।

সূর্য কান্তের মতে, বিচারব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা। যদি কোনও ব্যক্তি মধ্যরাতে গ্রেফতারির মুখে পড়েন এবং তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তাহলে আদালতের দরজা বন্ধ থাকা উচিত নয়। সেই কারণেই তিনি চান, জরুরি ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ২৪ ঘণ্টা মানুষের পাশে দাঁড়াক।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ‘ইমার্জেন্সি জাস্টিস’ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। যেমন, রাতের বেলা হঠাৎ পুলিশি তৎপরতার বিরুদ্ধে দ্রুত অন্তর্বর্তী নির্দেশ পাওয়া সম্ভব হবে। এতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একজন প্রবীণ আইনজীবীর কথায়, “এই ভাবনা অত্যন্ত প্রগতিশীল। আদালত যদি সত্যিই ২৪x৭ মানুষের জন্য কাজ করে, তাহলে আইনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।” তবে তিনি এটাও জানান, এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত বিচারপতি, আদালত কর্মী এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর প্রয়োজন হবে। প্রধান বিচারপতির এই ঘোষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার।

ভার্চুয়াল শুনানি, ই-ফাইলিং এবং ডিজিটাল নথির মাধ্যমে জরুরি মামলা শুনানির পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে। আইন মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে একটি ‘নাইট বেঞ্চ’ বা জরুরি বেঞ্চ গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, এটি প্রমাণ করে যে আদালত কেবল আইনজ্ঞদের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সাধারণ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। বিশেষ করে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত মামলায় নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে।

সব মিলিয়ে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এই ঘোষণাকে ভারতের বিচারব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। “মানুষের আদালত” ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে এটি যে এক সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সে বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। এখন দেখার বিষয়, কীভাবে এবং কত দ্রুত এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তব রূপ পায়।

Advertisements