Supreme Court : বিচারপতির বিরুদ্ধে অন্য বিচারপতির যৌন হেনস্থার অভিযোগ

Supreme Court

রক্ষকই ভক্ষক। যৌন হেনস্থার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই কথাটি খাটে সর্বান্তকরণে। অভিযোগ, হাইকোর্টের এক বিচারপতির হাতে যৌন হেনস্থা হতে হয়েছিল এক মহিলা বিচারপতিকে। ঘটনাটিতে এবার হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

২০১৪ সালের ঘটনা। এক বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এক মহিলা বিচারপতি। জেলা আদালতে কর্মরত ছিলেন সেই মহিলা বিচারপতি। মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টের এক আইনজীবী বিচারের জন্য আবেদন করেছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরবারে। ২৭ জানুয়ারি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই দিনই হতে পারে মামলার ফয়সালা।

   

বিচারপতি নাগেশ্বর রাও এবং বিচারপতি বিআর গাভাইকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ শুক্রবার এই নির্দেশ জারি করেছে। পদত্যাগকারী অতিরিক্ত জেলা বিচারপতি (এডিজে) পুনর্বহালের জন্য দায়ের করা একটি রিট পিটিশন বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এর পক্ষ থেকে আগে একাধিকবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টকে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছিল, আবেদনকারীকে পুনর্বহাল করা হোক। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এখনও।

হাইকোর্টও বেঞ্চের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। পুনর্বহালের বিষয়টি তাদের পক্ষে দেখা কতটা সম্ভব, সে বিষয়ে সন্দিহান উচ্চ আদালত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টকে বেঞ্চের তরফে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কেন তারা আদালতের পরামর্শ মতো কাজ করতে পারছে না। জানতে চাওয়া হয়েছিল হাইকোর্টের যুক্তি।

মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টের তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি অর্জুন গর্গ। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, এই মামলার নিষ্পত্তি কোনোভাবেই তাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টকেই নিতে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অভিজ্ঞ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং।

তিনি জানিয়েছেন, হাইকোর্টের তরফে একটি হলফনামা জমা করা হয়েছে। ‘এখনও পর্যন্ত আমরা বলতে পারি না যে দাখিল করা হলফনামায় পূর্ণ আদালতের অনুমোদন আছে কিনা বা কার অনুমোদন রয়েছে’, বলেছেন ইন্দিরা। সর্বপরি মধ্য প্রদেশের পক্ষ থেকে হাজির আইনজীবীরা এটা বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল স্তরের বিচার ব্যবস্থায় তাঁরা আস্থা রাখতে পারছেন না। জয়সিং আরও বলেছেন যে মধ্যপ্রদেশ রাজ্য এর উত্তরদাতা। রাজ্যের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দায়ের করা হয়নি।

রাজ্যে পক্ষের অ্যাডভোকেট মৃণাল মজুমদার দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন নিজের কাঁধ থেকে। তিনি ২০১৯ সাল জমা দেওয়া একটি হলফনামার কথা উল্লেখ করেছেন। যার নির্যাস- রাজ্য বিবেচনা করবে উচ্চ আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্ত।

মামলা এখন সুপ্রিম দরবারে। ২৭ তারিখ হতে পারে নিষ্পত্তি। আবেদনকারীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ফের চাকরিতে নিয়োগের পক্ষেই আভাস দিয়েছে একাধিকবার।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন