
সুকমা, ছত্তীসগড়: বস্তারের ঘন অরণ্য, পাহাড়ি পথ আর সন্ত্রাসের আতঙ্কে বছরের (Sukma Naxal surrender)পর বছর মানুষজন যেখানকার বিকাশের স্বপ্ন ভুলতে বসেছিল, সেখানে ফের দেখা গেল নতুন অধ্যায়ের শুরু। সুকমা জেলায় আরও ১০ জন নকশাল আত্মসমর্পণ করলেন নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। হাতে অস্ত্র, মাথায় মোট ৩৩ লক্ষ টাকার পুরস্কার, আর পেছনে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা বন্দুকের রাজনীতি সবটা পিছনে ফেলে এবার তারা বেছে নিলেন স্বাভাবিক জীবনের পথ।
বস্তার আইজি পি. সুন্দররাজ জানালেন, “আমরা নকশালবাদের শিকড় উপড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছি। তার ফলেই নকশালিরা আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসছেন।” তাঁর কথার মধ্যেই প্রকাশ পেল দুই দশকের বেশি সময় ধরে হিংসায় ক্লান্ত এক অঞ্চলের বদলে যাওয়ার আশার আলো।
১১ বছর পর হঠাৎ মঙ্গলগ্রহের রোভার ম্যাভেনের সঙ্গে নাসার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনের দাবি, গত কয়েক মাসে সুকমা, বিজাপুর ও দান্তেওয়াড়া এলাকায় সরকার যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি শুরু করেছে রাস্তা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যালয়, পানীয় জলের ব্যবস্থা তা স্থানীয়দের ভরসা যোগাচ্ছে। এই উন্নয়ন সাধারণ গ্রামবাসীর জীবন পাল্টে দিচ্ছে, একই সঙ্গে নকশালদেরও ভাবাচ্ছে।
আত্মসমর্পণ করা এক নকশাল জানায়, “জঙ্গলে লড়াই করে আর কতদিন? বাড়ির কথা মনে পড়ত, মায়ের কথা মনে পড়ত। এখন নতুন জীবন শুরু করতে চাই।” তার চোখের ভাষাতেই বোঝা গেল সংঘর্ষের দুঃসহ দিনগুলো পেছনে ফেলে আসার বেদনামেশানো স্বস্তি।
বছরের পর বছর কঠোর অভিযান চালানোর পাশাপাশি সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী হাতে গোনা কয়েকটি ওয়ারলাইক অপারেশনের বদলে এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জনসংযোগে, উৎসাহ দিচ্ছে পুনর্বাসনে। মুখোমুখি লড়াইয়ের পথ ছাড়িয়ে এখন তারা নকশালদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নানা সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আইজি সুন্দররাজ বলেন, “শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, মানবিক উদ্যোগও একইসঙ্গে চালানো হচ্ছে। নকশালদের সমাজে ফিরতে সাহায্য করছি কাজ, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা সবই দেওয়া হচ্ছে।”
আত্মসমর্পণ করা ১০ জনের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে মামলা ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন কয়েকটি বড় বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে। প্রত্যেকের মাথায় ছিল আলাদা পুরস্কার, মোট মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণের পর তাদের নিয়ামিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং সরকার পরিচালিত পুনর্বাসন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের একাধিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি, সরকারের উদ্যোগ, এবং অব্যাহত সংঘর্ষে ক্লান্তি সব মিলিয়ে মানুষ শান্তি চায়। একজন গ্রামবাসী বলেন, “রাতে ঘুম হতো না। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগত। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
আরও বদলাবে আশা করি।” গত তিন বছরে মোট ৭০০-র বেশি নকশাল আত্মসমর্পণ করেছে ছত্তীসগড়ে। এতে বোঝা যাচ্ছে দক্ষিণ বস্তারে নকশাল প্রভাব অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে। সরকারি তথ্য বলছে, এখন আগের তুলনায় এলাকায় হামলার ঘটনা অনেক কম।










