অযোধ্যায় ভক্তদের জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুলিশের

অযোধ্যায় ভক্তদের আগমন বাড়তে থাকায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শহরে আসা সমস্ত ভক্তদের জন্য নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অযোধ্যা পুলিশ সুপার রাজকারণ নায়ার জানিয়েছেন, “অযোধ্যায় প্রচুর ভক্ত আসছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘন্টা ডিউটি রাখা হয়েছে। সমস্ত পুলিশ কর্মী একযোগে কাজ করছেন যাতে সকল ভক্ত নিরাপদে এবং সুন্দরভাবে তাদের প্রার্থনা সম্পন্ন করতে পারেন।”

পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভক্তদের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রুট অনুযায়ী করা হয়েছে এবং ট্রাফিক পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া হারানো-পাওয়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শহরের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতে ভক্তরা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারেন এবং কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হন।
অযোধ্যায় বিপুল পরিমাণ ভক্তের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষত, শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে দর্শনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এসে উপস্থিত হচ্ছেন। অনেক ভক্ত মহাকুম্ভের পবিত্র স্নানে অংশ নেওয়ার পর রামলালার দর্শন করতে আসছেন।

   

অযোধ্যায় ভক্তদের সংখ্যা বাড়ানোর কারণে, পুলিশ প্রশাসন শহরকে ছয়টি জোন এবং ১১টি সেক্টরে ভাগ করেছে যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরো উন্নত এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়। অযোধ্যার পুলিশ সুপার মধুবন কুমার সিং জানিয়েছেন, “মহাকুম্ভ মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভক্তদের আগমন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুম্ভ মেলা থেকে এখানে এসে ভক্তরা শ্রী রাম ও হনুমান জির দর্শন করার জন্য অযোধ্যা দামে পৌঁছাচ্ছেন। সকাল থেকে লাখ লাখ ভক্ত এই শহরে এসে দর্শন গ্রহণ ও সরযূ নদীতে স্নান করছেন।

এছাড়া অযোধ্যা আসার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর ভক্ত সমবেত হচ্ছেন এবং সবকিছু ঠিকভাবে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি অযোধ্যার উন্নতির বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রয়াগরাজ, কাশী এবং অযোধ্যা ভারতের উন্নতির প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “অযোধ্যায় ভক্তদের সংখ্যা ২০১৬-১৭ সালে ২.৩৫ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১৪-১৫ কোটি ছাড়িয়েছে। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় শ্রদ্ধা নয়, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও একটি লক্ষণ।”
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, এই সকল শহরের উন্নতি ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় গুরুত্বের প্রতিফলন। অযোধ্যার সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। যা এই শহরের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করেছে।

ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য, অযোধ্যায় পুলিশ কঠোরভাবে সমস্ত ব্যবস্থাপনা করছে। যাত্রীদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং হারানো-পাওয়া কেন্দ্রগুলি ভক্তদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি ভক্ত নিরাপদে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় কার্য সম্পন্ন করতে পারেন।

অযোধ্যার সার্বিক উন্নতি, বিশেষ করে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের দিকে ধাবিত হওয়া ভক্তদের আগমনের কারণে শহরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত ভক্তদের জন্য আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা নেওয়া হয়েছে, যাতে সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন