ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা স্ট্যালিনের

Stalin announces decision to challenge Waqf Bill in Supreme Court লোকসভায় ওয়াকফ (waqf) সংশোধন বিল ২০২৫ পাস হওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড়…

MK Stalin on waqf bill

Stalin announces decision to challenge Waqf Bill in Supreme Court

   

লোকসভায় ওয়াকফ (waqf) সংশোধন বিল ২০২৫ পাস হওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড় মুন্নেত্র কঝগম (DMK) সভাপতি এম কে স্ট্যালিন গতকাল, ২ এপ্রিল, এই বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করার ঘোষণা করেছেন। আজ, ৩ এপ্রিল, তিনি বিধানসভায় কালো ব্যাজ পরে এসে এই বিলকে ‘সংবিধানের কাঠামোর ওপর আক্রমণ’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি কাজ। এই কারণে আমরা আজ বিধানসভার কার্যক্রমে কালো ব্যাজ পরে অংশ নিচ্ছি।”

Advertisements

বিধানসভায় স্ট্যালিনের বক্তব্য 

বিধানসভায় স্ট্যালিন বলেন, “ভারতের অধিকাংশ বিরোধী দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও, কয়েকটি মিত্র দলের সমর্থনে রাত ২টায় এই সংশোধনী গৃহীত হয়েছে। এটি সংবিধানের কাঠামোর ওপর আক্রমণ।” তিনি আরও জানান, “ডিএমকে-র পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত সংশোধনীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে।

তামিলনাড়ু কেন্দ্রীয় সরকারের এই আইনের বিরুদ্ধে লড়বে, যা ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন ধ্বংস করছে এবং সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।” তাঁর এই বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে টেবিল চাপড়ানোর শব্দ শোনা যায়।

আরো দেখুন প্রবীণদের জন্য সুখবর! SCSS-এ ৮.২% সুদ বহাল

বিলের পাস ও সংখ্যার হিসেব

স্ট্যালিন উল্লেখ করেন, গতকাল লোকসভায় এই বিল ২৮৮-২৩২ ভোটে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, “২৩২ সাংসদ এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, এটি কোনও সাধারণ সংখ্যা নয়। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাত্র ২৮৮ জন এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় যে এত বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি পাস করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, গত ২৭ মার্চ তামিলনাড়ু বিধানসভা এই প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল, কারণ এটি ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর।

ওয়াকফ (waqf) বিলের প্রেক্ষাপট

ওয়াকফ (waqf) সংশোধন বিল ২০২৫ গতকাল রাতে দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাস হয়। সরকার দাবি করেছে, এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে এবং ওয়াকফ বোর্ডের কার্যকারিতা বাড়াবে। তবে, বিরোধী দলগুলি, যার মধ্যে ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি অন্যতম, এটিকে ‘মুসলিম বিরোধী’ এবং ‘সংবিধান বিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছে। বিলে অমুসলিমদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সম্পত্তি নিবন্ধনের কঠোর শর্ত আরোপের মতো বিষয়গুলি বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্ট্যালিনের অভিযোগ

স্ট্যালিন বলেন, “এই বিল ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি ষড়যন্ত্র। কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন ধ্বংস করা হচ্ছে, যা সংবিধানের মৌলিক চেতনার বিরুদ্ধে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কয়েকটি মিত্র দলের চাপে এই বিল পাস করা হয়েছে, যা জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে।” তাঁর মতে, এটি কেবল তামিলনাড়ু নয়, গোটা ভারতের জন্য একটি হুমকি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ডিএমকে-র এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য দল। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র বলেন, “এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। আমরা স্ট্যালিনের সঙ্গে আছি।” সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নদভি বলেন, “এই বিল সংবিধানকে উপেক্ষা করে পাস করা হয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী এবং ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার রোধ করবে।

জনমত ও প্রতিবাদ

তামিলনাড়ুতে এই বিলের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, “এটি সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপর আঘাত।” বিধানসভায় কালো ব্যাজ পরা ডিএমকে বিধায়কদের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হলে এটি দেশব্যাপী আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।

আগামীর পথ

বিলটি (waqf) এখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য যাবে, যেখানে বিরোধীদের সংখ্যাগত শক্তি কিছুটা বেশি। স্ট্যালিনের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা এই লড়াইকে আইনি মোড় দেবে। তামিলনাড়ুর এই পদক্ষেপ অন্যান্য বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং বিধানসভায় প্রতিবাদের মাধ্যমে ডিএমকে এই আইনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে।