
মুসলিম মৌলবাদীদের চক্ষুশূল তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। যিনি বরাবরই মৌলবাদী কর্মকান্ডের এবং শরীয় আইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যা তার সাহিত্য সৃষ্টিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ঠিক এই কারণেই তিনি বার বার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিতাড়িত হয়েছেন দেশ থেকে। এমনকি বাংলাতেও বামপন্থীদের বদান্যতায় তার জায়গা হয়নি। বর্তমানে নয়াদিল্লির বাসিন্দা এই সাহিত্যিক পেলেন বিশেষ সম্মান।
তাও আবার সেই বামপন্থীদের থেকেই। সম্প্রতি কেরলের কোল্লামে একটি বইমেলায় তাকে আমন্ত্রণ জানায় বাম শিবির এবং এই আমন্ত্রনের উদ্যোক্তা হলেন কেরল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির স্পীকার এ.এম. শামশীর। এই অনন্য সম্মানের পেয়েই তসলিমা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লিখেছেন “পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার আমার শুধু বই ব্যান করেনি, আমাকে রাজ্য থেকে তাড়িয়েছে, শুধু তাই নয়, আমাকে ছলে বলে কৌশলে ভারতবর্ষ থেকেও তাড়িয়েছিল।”
প্রথমবারের মতো সস্তা হলো iPhone 17, মাত্র 74,999 টাকায় কেনার সুযোগ
“আর এদিকে কেরালার বাম সরকার আমাকে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে সাহিত্য অনুষ্ঠানে, বইমেলায়। এবার আমন্ত্রণ এলো কেরালা লেজিসলেচার ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভেলে যোগ দেওয়ার জন্য।” তসলিমার মতে বামপন্থী শাসন হলেও কেরলে যে সম্মান তাকে দেওয়া হয়েছে তা এক কথায় অনবদ্য এবং সবচেয়ে আশ্চর্য একজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তিনি বামপন্থীদের সঙ্গে নিয়ে তসলিমাকে এই সম্মান দিয়েছেন।”
যেখানে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাম শিবির তথা মৌলবাদীরা সবসময় তার বিরুদ্ধেই কথা বলেছে। তসলিমা সম্প্রতি তার একটি ফেসবুক পোস্টে স্পট লিখেছিলেন বিশেষ করে তার ‘লজ্জা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পরে তাকে নিজের দেশে এবং ভারতে যথেষ্ট অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। বাংলার বামপন্থীরা তার এই উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং তাকে বাংলা থেকে রীতিমত গলা ধাক্কা খেতে হয়েছিল।
তসলিমার এই বইয়ের বিষয়বস্তু ছিল মৌলবাদীদের নারীদের উপর অত্যাচার এবং শরিয়া আইন। তার বিরুদ্ধেই এই ‘লজ্জা’ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তসলিমা। যার ফলে দেশে বা ভারতে তাকে বার বার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। কিন্তু কেরলের বামপন্থীদের দেওয়া এই অনন্য সম্মান পেয়ে তসলিমা যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যেখানে বাংলায় বামেরা তাকে জায়গা দেয়নি, মুসলিম মৌলবাদীরা তাকে হুমকি দিয়েছে।
সেখানে এই সম্মান এক অনন্য সম্মান হয়ে উঠেছে যেখানে প্রধান উদ্যোক্তা একজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সব মিলিয়ে শেষ কথায় বলাই যায় বাংলার বামপন্থীরা বা মুসলিমরা তসলিমার পাশে না দাঁড়ালেও তার প্রাপ্য সম্মান না দিলেও দক্ষিণ ভারতের বাম সরকার সেই সম্মান দিয়ে তসলিমাকে স্বাগত জানাল।










