
ভারতের রাজনীতিতে পুরনো বিতর্ক আবারও মাথাচাড়া দিল। ১৯৮৩ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের আগেই সোনিয়া গান্ধীর নাম নাকি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, এই অভিযোগের তদন্ত চেয়ে দায়ের হওয়া আবেদন খারিজ করার ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে। সেই রিভিশন পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিলেন বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৬ জানুয়ারি।
অভিযোগ: নাগরিক না হয়েই ভোটার তালিকায় নাম?
রিভিশন আবেদন দাখিল করেছেন সেন্ট্রাল দিল্লি কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বিকাশ ত্রিপাঠী। তাঁর আইনজীবী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট পবন নারাং-এর দাবি, ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে নিউ দিল্লি কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম যোগ করা হয়, যখন তিনি তখনও ভারতীয় নাগরিক ছিলেন না। তাঁদের বক্তব্য, এখানে “জালিয়াতি” হয়েছে এবং একটি সরকারি সংস্থাকে “প্রতারণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত” করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ১১ সেপ্টেম্বর আবেদনটি খারিজ করে জানায়, অভিযোগকারীর বক্তব্য আইনগতভাবে টেকসই নয়৷ অভিযোগ “মূল উপাদানহীন ও আদালতের এখতিয়ার তৈরির উদ্দেশ্যে সাজানো”৷ cheating বা forgery-র মতো গুরুতর অভিযোগ আনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নেই৷ পুরো দাবি দাঁড়িয়ে আছে একটি ‘ফটোকপির ফটোকপি’ ধরনের অপ্রমাণিত ভোটার তালিকার অংশ–এর ওপর, যার কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই৷
আদালতের কথায়, “এই ধরনের প্রচেষ্টা মূলত আইনের অপব্যবহার—দেওয়ানি স্তরের বিরোধকে অপরাধমূলক রূপ দিয়ে আদালতের এখতিয়ার তৈরি করার চেষ্টা।”
রিভিশনে আদালতের নোটিস—রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড়
ম্যাজিস্ট্রেটের এই পর্যবেক্ষণ ও আবেদন খারিজের পরও অভিযোগকারী পক্ষ রিভিশন পিটিশন করে। সেই রিভিশন শুনতে গিয়েই বিশেষ আদালত সোনিয়া গান্ধী ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস জারি করেছে। এতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে—পুরনো এক বিতর্ক কি আবার তীব্র রূপ নিতে চলেছে? সব চোখ এখন ৬ জানুয়ারির শুনানির দিকে।




