নাগরিকত্ব প্রমান করতে আদালতের নোটিশ সোনিয়াকে

sonia-gandhi-citizenship-notice-delhi-court

নয়াদিল্লি: দিল্লির একটি সেশনস কোর্টে ফের উত্তাল হয়ে উঠল সোনিয়া গান্ধীর নাম (Sonia Gandhi Citizenship )। ১৯৮০-৮১ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই খারিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশন পিটিশনের শুনানিতে সোমবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশনস জজ সোনিয়া গান্ধীকে নোটিশ জারি করেছেন।

একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকেও নোটিশ ধরানো হয়েছে এবং মামলার সমস্ত নথি (TCR) তলব করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৬ জানুয়ারি।এই মামলার মূলে রয়েছে ২০২২ সালের জুন মাসে দায়ের করা একটি বেসরকারি অভিযোগ। অভিযোগকারী, দিল্লির বাসিন্দা বিনিত শর্মা দাবি করেন, ১৯৮০ সালে সোনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিকই ছিলেন না।

   

বাড়তে চলেছে পান মশলার দাম? সংসদে পাস প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য তহবিলের নতুন সেস

তিনি তখনও ইতালির নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। তা সত্ত্বেও ১৯৮০-৮১ সালে দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি এলাকার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম কীভাবে যোগ হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, এই কাজের মাধ্যমে সোনিয়া গান্ধী জালিয়াতি, প্রতারণা এবং সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন।

আইপিসি-র ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করার আর্জি জানানো হয়েছিল।কিন্তু মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অভিযোগ খারিজ করে দেন। ম্যাজিস্ট্রেটের যুক্তি ছিল, অভিযোগে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ (prima facie evidence) নেই এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরপর অভিযোগকারী সেশনস কোর্টে রিভিশন পিটিশন দায়ের করেন। সোমবার সেই পিটিশনের প্রথম শুনানিতে বিচারক অনুভব কুমার নোটিশ জারি করলেন।

আইনজ্ঞদের মতে, এই নোটিশের অর্থ এই নয় যে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এটি কেবলমাত্র একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। রিভিশন পিটিশনে অভিযোগকারী যে যুক্তি দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনতে চান। তবে রাজনৈতিক মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।কংগ্রেসের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

তবে দলের অন্দরে এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা বলছেন, সোনিয়া গান্ধী ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি ইতালির নাগরিক হলেও, ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার ছিল। ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে যে বিতর্ক, তা আগেও বহুবার উঠেছে এবং প্রতিবারই আইনি লড়াইয়ে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন