ভারতের এই রাজ্যের হাত ধরে সারা দেশে নিষিদ্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া?

হায়দরাবাদ: ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া (social media)আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু শিশু-কিশোরদের জন্য এটা কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্ন নিয়ে এখন বিতর্ক তুঙ্গে। অন্ধ্রপ্রদেশ…

social-media-ban-children-andhra-pradesh-india

হায়দরাবাদ: ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া (social media)আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু শিশু-কিশোরদের জন্য এটা কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্ন নিয়ে এখন বিতর্ক তুঙ্গে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার সম্প্রতি একটা বড় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় এসেছে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করছে।

Advertisements

রাজ্যের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশ ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে Bloomberg-এর সঙ্গে কথা বলে বলেছেন, “একটা নির্দিষ্ট বয়সের নিচের যুবকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা উচিত নয়, কারণ তারা যা দেখছে তা বুঝতে পারে না।” এই প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়ার মতো, যেখানে গত বছরই ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করা হয়েছে।

   

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ দরজা খুলবে আইসিসি!

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এটা কি সারা ভারতে প্রয়োগ করা উচিত? রাজ্য সরকার একটা গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স (GoM) গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে লোকেশ নিজে, সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভি অনিতা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যকুমার যাদব এবং আইঅ্যান্ডপিআর মন্ত্রী কে পার্দা সারথি।

এই কমিটি বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করছে, আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস দেখছে, শিশুদের সঙ্গে জড়িত সোশ্যাল মিডিয়া কেসের স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যানালাইজ করছে এবং এনজিওদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুদের মানসিক ও আচরণগত প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করছে।

আইটি সেক্রেটারি কাতামানেনি ভাস্কর বলেছেন, তারা টেকনোলজি অপশনস খুঁজছেন যাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাক্সেস সীমিত বা ব্লক করা যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যান হয়তো সম্ভব নয় কারণ VPN বা অন্য উপায়ে এড়ানো যায়।

কেন এই ব্যান? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন, ফেক নিউজ, সাইবার বুলিং, নারী ও শিশুদের প্রতি অ্যাবিউসিভ কনটেন্ট প্রচুর। শিশুরা এসবের প্রভাবে মানসিক চাপে পড়ে, অ্যাঙ্গজাইটি, ডিপ্রেশন বাড়ে।

লোকেশ বলেছেন, শিশুরা অপরিপক্ব, তাই এসব কনটেন্ট প্রসেস করতে পারে না। ভারতে ইতিমধ্যে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস আছে, কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয়। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যান চালু হওয়ার পর গ্লোবাল ডিবেট শুরু হয়েছে, এবং অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম রাজ্য হিসেবে এটা অনুসরণ করতে চাইছে।

এখন প্রশ্ন, এটা কি সারা ভারতে চালু হওয়া উচিত? সমর্থকরা বলছেন, হ্যাঁ। শিশু সুরক্ষার জন্য এটা জরুরি। ভারতে ৪০ কোটির বেশি শিশু-কিশোর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, এবং অনেক কেসে সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়। একটা জাতীয় আইন হলে শিশুদের মেন্টাল হেলথ ভালো হবে, স্টাডি ও খেলাধুলায় ফোকাস বাড়বে। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোও এদিকে যাচ্ছে।

ভারতে যদি ফেডারেল লেভেলে এটা হয়, তাহলে বিগ টেক কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা যাবে বয়স ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করতে।কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, এটা অতিরিক্ত। সোশ্যাল মিডিয়া শিক্ষা, যোগাযোগ, ক্রিয়েটিভিটির জায়গা।

ব্যান করলে শিশুদের ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক্সপার্ট কর্নিকা সেথ বলেছেন, এনফোর্সমেন্ট চ্যালেঞ্জিং IP ডিটেকশন এড়ানো সহজ, তাই ব্যান ফিজিবল নয়। তার বদলে এডুকেশন, প্যারেন্টাল গাইডেন্স এবং প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট মডারেশন বাড়ানো উচিত। রেড্ডিটে অনেকে বলছেন, এটা প্রাইভেসি ইস্যু তৈরি করবে, কারণ বয়স ভেরিফাই করতে ID দিতে হবে।

Advertisements