রাজস্থানের মাটিতে ভারত গঠনের নয়া দিশা দেখালেন স্মৃতি ইরানি

Smriti Irani Advocates a New Model of Nation-Building at Rajasthan Event
Smriti Irani Advocates a New Model of Nation-Building at Rajasthan Event

রাজস্থান ডিজিফেস্ট X TiE গ্লোবাল সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani) ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। রাজস্থানের মাটিতে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা উদ্যোক্তা, শিল্পপতি, প্রযুক্তিবিদ ও চিন্তাবিদদের উপস্থিতিতে স্মৃতি ইরানি বলেন, TiE গ্লোবাল কমিউনিটি সারা বিশ্বের অনন্য প্রতিভাকে একত্রিত করে ভারতকে আরও সচেতন, সক্ষম এবং শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নিজের বক্তব্যে স্মৃতি ইরানি বলেন, “TiE গ্লোবাল এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ভাবনা, উদ্ভাবন ও উদ্যোগ একসঙ্গে মিলিত হয়। রাজস্থানের মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ রাজ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে বৈশ্বিক প্রতিভার সমাগম ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।” তিনি TiE গ্লোবাল কমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানান এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।

   

স্মৃতি ইরানি বিশেষভাবে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। TiE গ্লোবাল সামিটে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কাঠামো যেমন বদলে যাচ্ছে, তেমনই সামাজিক চিন্তাভাবনাতেও আসছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ভারতকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। আর সেই মানবসম্পদের অর্ধেকই হল নারী। তাই নারীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

রাজস্থান ডিজিফেস্ট X TiE গ্লোবাল সামিট ২০২৬ মূলত স্টার্টআপ, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি এবং উদ্ভাবকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্মৃতি ইরানি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সম্মেলন ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজস্থান শুধু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং এখন এটি নতুন ভারতের উদ্ভাবন ও উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ডিজিটাল অবকাঠামো, স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং যুবসমাজের উদ্যম রাজস্থানকে আগামী দিনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত করবে বলেও তিনি আশাবাদী। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে স্মৃতি ইরানি বলেন, ভারতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হলে সরকার, বেসরকারি ক্ষেত্র এবং নাগরিক সমাজ— সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। TiE গ্লোবাল কমিউনিটির মতো সংগঠন সেই সম্মিলিত প্রয়াসের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। রাজস্থান ডিজিফেস্ট X TiE গ্লোবাল সামিট ২০২৬ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের পথে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন