নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR voter list) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রাক্তন IAS অফিসার ও কংগ্রেস নেতা শশীকান্ত সেথিল সম্প্রতি দাবি করেছেন, SIR কার্যকর হলে দেশে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ “প্রকৃত ভোটার” তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে গুরুতর বিভ্রান্তি রয়েছে, যার ফলে বহু নাগরিকের ভোটাধিকার বিপন্ন হতে পারে।
শশীকান্ত সেথিলের এই মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যদি সত্যিই এত বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে বিহারে খসড়া SIR প্রকাশের পর কংগ্রেস কেন একটিও আনুষ্ঠানিক আপত্তি (objection) জমা দিল না? কংগ্রেস কি তবে এক জন প্রকৃত ভোটারকেও তালিকা থেকে বাদ পড়তে দেখেনি? নাকি বাস্তব চিত্র শশীকান্তের দাবির সঙ্গে মেলে না এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
চট্টগ্রামে ফের হিন্দু হত্যায় ছড়াল চাঞ্চল্য
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিহার ছিল সেই রাজ্যগুলির অন্যতম যেখানে SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক দল, নাগরিক ও সংগঠনগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল প্রমাণ-সহ আপত্তি জানাতে পারে। কিন্তু সরকারি সূত্র ও নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, কংগ্রেসের তরফে একটি আপত্তিও জমা পড়েনি যা শশীকান্ত সেথিলের দাবিকে ঘিরে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।
বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, SIR কোনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় থাকা ভুয়ো, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের চিহ্নিত করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ। বিজেপির এক নেতা বলেন, “যদি ১০–১৫ শতাংশ প্রকৃত ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকত, তাহলে বিরোধীরা প্রথমে বিহারেই তা প্রমাণ করত। কিন্তু বাস্তবে একটি অভিযোগও জমা পড়েনি।”
অন্যদিকে কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, SIR-এর প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ অনেক সময় জানতেই পারেন না যে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। শশীকান্ত সেথিলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, “আপত্তি না পড়ার অর্থ এই নয় যে সমস্যা নেই।
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই প্রক্রিয়ার জটিলতা বুঝতে পারেন না।” তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশ এই যুক্তিকে মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব বুথ স্তরের সংগঠন রয়েছে, যাদের কাজই হল ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা। এত বড় সংখ্যক ভোটার বাদ পড়লে তা নজরে না আসা প্রায় অসম্ভব।
এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ হয়েছে। তবে শশীকান্ত সেথিলের মতো প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আমলার মুখে ১০–১৫ শতাংশ ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কার কথা উঠে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে যখন বাস্তব উদাহরণ বা নথিভিত্তিক প্রমাণ সামনে আসছে না, তখন তাঁর দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে শাসক শিবির।
সব মিলিয়ে SIR প্রক্রিয়া ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার প্রশাসনিক দাবি, অন্যদিকে ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কা এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা। তবে বিহারের অভিজ্ঞতা আপাতত একটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে: দাবি যত বড়ই হোক, প্রমাণের অভাব রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
