
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) শুরু হতেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi infiltrators) মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই আবহেই তামিলনাড়ুর সেলম জেলা থেকে ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রেনে করে তাঁদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, যা নতুন করে বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনা উসকে দিয়েছে।
সূত্রের খবর, ধৃত ২৪ জনের মধ্যে পুরুষ, মহিলা ও শিশু—সবাই রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
এই ঘটনাকে সরাসরি SIR অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান দেশের সর্বত্র ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং কারা বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছেন—তা যাচাই করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যাঁদের কাছে বৈধ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি নেই, তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শুধু তামিলনাড়ুতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে SIR শুরু হওয়ার পর থেকে বহু বাংলাদেশি নিজে থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অঘোষিত হিসেবে জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা থেকেই গত কয়েক মাসে প্রায় ১,৬০০ জন বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় ফিরে গিয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা সরকারি ভাবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
সেলম জংশন স্টেশনে ধৃতদের ট্রেনে তোলার দৃশ্য সম্প্রচার করেছে Polimer News। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে থাকা মহিলা ও শিশুদের পাশাপাশি পুরুষদের লাইন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, চারদিকে কড়া পুলিশি পাহারা। এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, দেশের নিরাপত্তা ও ভোটব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। আবার অন্য একাংশ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে প্রশ্ন তুলছেন, এত বছর ধরে ভারতে বসবাসকারী দরিদ্র শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু ও অভিবাসী শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। শাসক শিবিরের পাল্টা বক্তব্য, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি, আর অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, SIR অভিযানের প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। একদিকে যেমন ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হবে, তেমনই অবৈধ অভিবাসন ইস্যুও নতুন করে সামনে আসবে। তামিলনাড়ুর সেলমের এই ২৪ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর গ্রেফতার সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, SIR কেবল একটি প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং দেশের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও মানবিক প্রশ্নকে একসঙ্গে সামনে এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এই অভিযান কতটা ব্যাপক আকার নেয় এবং তার সামাজিক প্রভাব কী হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।










