কলকাতা: হুগলির সিঙ্গুর, (Singur)যে নাম বাংলার রাজনীতির পালাবদলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। ২০০৬ সালের টাটা ন্যানো কারখানা বিরোধী আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনে দিয়েছিল, ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। কিন্তু প্রায় দু’দশক পরে সেই একই জমিতে ফের রাজনৈতিক যুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ সিঙ্গুরের ‘টাটা ফিল্ড’-এ (গোপালনগর মৌজা) বিশাল জনসভা করবেন।
এই সভার জন্য জমির মালিকদের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী বেচারাম মান্না।বেচারাম মান্না, সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ১৮ জানুয়ারি সেই জমিতে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, কিন্তু জমির মালিকের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।
৩ নম্বরের জন্য জুটলনা ভারতীয় সেনায় জায়গা! লুফে নিলেন ট্রাম্প
জমির মালিকরা এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন।” তিনি যোগ করেন, ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মূল মালিকদের কাছে। সেই জমি এখন কৃষকদের নিজস্ব। রাজনৈতিক সভা করতে হলে অনুমতি দরকার। এটা আইনি লঙ্ঘন।বিজেপির পক্ষ থেকে এই সভা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় কৌশল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সিঙ্গুরে গিয়ে প্রস্তুতি দেখে এসেছেন। তিনি বলেছেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটা মোটরসকে ফিরিয়ে আনা হবে সিঙ্গুরে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী, যিনি ২০০৮-এ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন টাটাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, এখন সিঙ্গুর থেকে শিল্পায়নের বার্তা দেবেন। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ আসবেন। অনেক কৃষক, যারা একসময় আন্দোলন করেছিলেন, এখন শিল্প চান।
তারা সভায় সামনের সারিতে বসবেন।তৃণমূলের পালটা আক্রমণ তীব্র। বেচারাম মান্নার মতো নেতারা বলছেন, এটা রাজনৈতিক নাটক। ন্যানো তো অতীত, এখন নতুন করে শিল্প আনার নামে কৃষকদের জমি আবার ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত। তৃণমূল নেতারা বলছেন, সিঙ্গুরের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানে বিশ্বাস করে। রাজ্য সরকার ২০২৩-এ জমি পরিষ্কার করে চাষযোগ্য করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কাজ আটকে গেছে।
কৃষকরা এখনও অসন্তুষ্ট জমি ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু চাষ করা যাচ্ছে না।সিঙ্গুরের কৃষকদের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি। কেউ বলছেন, শিল্প চাই চাকরি, ব্যবসা। কেউ বলছেন, কৃষি ও শিল্প একসঙ্গে চলুক। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, “কৃষি-শিল্প সহাবস্থান।” তৃণমূল বলছে, মমতার আন্দোলনই সত্যি। প্রধানমন্ত্রীর সভা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটাবে বলে আশা বিজেপির। কিন্তু জমির অনুমতি নিয়ে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


