নয়াদিল্লি: শশী থারুরের ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Shashi Tharoor)নিয়ে অবস্থান নতুন করে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। কংগ্রেসের সিনিয়র সাংসদ শশী থারুর স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি দলের কোনো নীতি লঙ্ঘন করেননি, তবে অপারেশন সিঁদুরের প্রতি তাঁর সমর্থন নিয়ে তিনি “একদম অনুতপ্ত নন”।
এই অবস্থানের জন্য তাঁকে বারবার দলের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক এবং চিন্তার বিষয়। উল্টোদিকে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বার বার কংগ্রেস মোদী সরকারের সমালোচনা করেছে।
সমবায় নির্বাচনের আগে সবজি ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
শশী থারুর বলেছেন একজন প্রবীণ সাংসদকে শুধুমাত্র দেশের একটি গোপন সামরিক অভিযান সমর্থন করার জন্য এভাবে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।অপারেশন সিঁদুর ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সশস্ত্র সংঘর্ষের অংশ। এপ্রিলের শেষে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার এই অভিযান চালায়।
মিসাইল হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়, যা চার দিনের মধ্যে শেষ হয়। অপারেশনের নামকরণ, প্রেজেন্টেশন এবং পরিচালনা সবকিছুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারকে শশী থারুর ফুল মার্ক্স্ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুরের নামকরণ থেকে শুরু করে এর পরিচালনা সবকিছু অসাধারণ ছিল।” আমেরিকায় অল-পার্টি ডেলিগেশনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযানের প্রশংসা করেন এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বলেন।
কিন্তু কংগ্রেসের অফিসিয়াল লাইন ছিল ভিন্ন। কংগ্রেস মোদী সরকারের এই অভিযানের পরিচালনা, তথ্য প্রকাশ এবং রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস নেতারা বলেছেন যে, সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে শশী থারুরের সমর্থন দলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। জয়রাম রমেশের মতো নেতারা তাঁকে ‘লক্ষ্মণ রেখা’ অতিক্রম না করার সতর্কবার্তা দেন।
কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এ নিয়ে আলোচনা হয় যে, থারুরের বক্তব্য দলের একতা ভাঙছে। কিছু সূত্র বলছে, লোকসভায় অপারেশন নিয়ে বিতর্কে কংগ্রেস তাঁকে বলার সুযোগ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি দলের লাইনের বিপরীতে কথা বলতে চাননি।শশী থারুর অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি একজন ভারতীয় হিসেবে কথা বলেছি, কংগ্রেসের হয়ে নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর বক্তব্যে কোনো দলীয় নীতি লঙ্ঘন হয়নি। তিনি অপারেশনের প্রশংসা করেছেন কারণ এটি দেশের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ। “আমি সরকারের জন্য কাজ করি না, কিন্তু দেশের জন্য কথা বলি,” এই কথায় তিনি তাঁর অবস্থানকে জাতীয়তাবাদী করে তুলেছেন। এমনকি কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “আমার মতামত অস্বীকার করার স্বাধীনতা তোমাদের আছে, কিন্তু আমি আমার অবস্থানে অটল।”
এই ঘটনা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একজন প্রবীণ নেতা, যিনি দলের হয়ে বহুবার লড়াই করেছেন, তাঁকে বারবার আনুগত্যের প্রমাণ দিতে হচ্ছে শুধুমাত্র দেশের সামরিক সাফল্য সমর্থন করার জন্য।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি কংগ্রেসের ‘অ্যান্টি-মোদী’ অবস্থানের চাপে পড়ার ফল। যেখানে দল সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে চায়, সেখানে থারুরের মতো নেতার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া দলের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে উঠছে।
কিছু মহলে বলা হচ্ছে, এতে দলের ভিতরে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।অন্যদিকে, থারুরের সমর্থকরা এটিকে তাঁর সাহসিকতা বলে দেখছেন। তাঁরা মনে করেন, রাজনীতিতে দলের চেয়ে দেশ বড়। অপারেশন সিঁদুরের মতো ঘটনায় সব দলের একসঙ্গে দাঁড়ানো উচিত ছিল, কিন্তু কংগ্রেসের সমালোচনা তা সম্ভব করেনি। থারুরের অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কিছু নেতা দলীয় লাইনের বাইরে গিয়েও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চান।
