নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে নতুন ঝড় তুলেছে জুলাই (Sharif Osman Hadi murder)অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে প্রকাশ্যে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকে এটাকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। এর মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতের প্রাক্তন RAW এজেন্ট লাকি বিষ্ট। তিনি বলছেন, কিছু ভোটের লোভে জামায়াত-ই-ইসলামী এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর যোগসাজশে নিজেদের নেতাকেই খুন করা হয়েছে। এই দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
‘সহাবস্থানের বার্তা’: একত্রে মন্দির-মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা তৃণমূল বিধায়কের
লাকি বিষ্ট, যিনি নিজেকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর প্রাক্তন এজেন্ট বলে দাবি করেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবং জামায়াত-ই-ইসলামীর একাংশ ভোটের রাজনীতিতে লাভবান হওয়ার জন্য এই হত্যার পিছনে রয়েছে।
ISI-এর সঙ্গে মিলে তারা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিষ্টের দাবি, প্রমাণসহ তিনি এই তথ্য দিয়েছেন যদিও সেগুলো প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি আরও বলেন, হাদির মতো প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু দেশে অস্থিরতা বাড়িয়ে জামায়াতের মতো গোষ্ঠীকে লাভবান করবে। এই দাবি ভারতীয় মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছে, যেখানে অনেকে এটাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে মনে করছেন।
শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ যোদ্ধা ছিলেন। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ভারতকে দায়ী করে অভিযোগ তোলে, যদিও ভারত সরকার এটাকে পুরোপুরি খারিজ করেছে। এর মধ্যে লাকি বিষ্টের দাবি নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। তিনি বলছেন, এটা ভারতের ষড়যন্ত্র নয়, বরং অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের কাজ যাতে নির্বাচন পিছিয়ে radical গোষ্ঠীগুলো লাভবান হয়।
