
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে ভারতের পক্ষ থেকে শাকসগাম (Shaksgam)উপত্যকা নিয়ে খুবই দৃঢ় ও শক্তিশালী বিবৃতি এসেছে। ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ১৯৬৩ সালের তথাকথিত চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে কখনো স্বীকার করেনি এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি)-কেও স্বীকৃতি দেয় না, কারণ এটি ভারতীয় ভূখণ্ড দিয়ে যায়।
গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই কথাগুলি খুবই স্পষ্টভাবে বলেন। তিনি বলেন, “শাকসগাম উপত্যকা ভারতীয় ভূখণ্ড। আমরা কখনো ১৯৬৩ সালের তথাকথিত চীন-পাকিস্তান ‘বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট’-কে স্বীকার করিনি।
চন্দ্রকোনার ঘটনায় শুভেন্দুর সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা
আমরা সবসময় এই চুক্তিকে অবৈধ ও অবৈধ বলে মনে করেছি। আমরা তথাকথিত চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরকেও স্বীকার করি না, কারণ এটি পাকিস্তানের জোর করে ও অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড দিয়ে যায়।”
এই বিবৃতি আসে চীনের শাকসগামে পরিকাঠামো নির্মাণের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে। সূত্রের খবর, চীন সিয়াচেন হিমবাহের উত্তরে এই এলাকায় একটি দীর্ঘ অল-ওয়েদার রাস্তা তৈরি করছে প্রায় ৭৫ কিলোমিটারেরও বেশি অংশ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। এই রাস্তা সিপিইসি-র অংশ হিসেবে চীনের শিনজিয়াং থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত সংযোগ আরও মজবুত করবে।
ভারতের জন্য এটি গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ, কারণ এই এলাকা লাদাখ ও সিয়াচেনের কাছাকাছি।জয়সওয়াল আরও যোগ করেন, “জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমস্ত ইউনিয়ন টেরিটরি ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এই কথা আমরা পাকিস্তান ও চীনের কাছে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছি। শাকসগাম উপত্যকায় ভূমির বাস্তবতা বদলানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা চীনের কাছে নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।
আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি।”এই ঘটনার পিছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৪৭-৪৮-এর যুদ্ধের পর পাকিস্তান অবৈধভাবে শাকসগামের প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে।
পরে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান এটি চীনের হাতে তুলে দেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান নিজেই এই এলাকার বৈধ মালিক ছিল না, তাই চুক্তিটি অবৈধ। ভারত এই চুক্তি কখনো মেনে নেয়নি এবং সবসময় এটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে আসছে।










