নয়াদিল্লি: শাহরুখ খানের মালিকানাধীন আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (Shah Rukh Khan) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিলামে কেনার পর থেকেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করেছেন।
বিখ্যাত কথাবাচক দেবকীনন্দন ঠাকুর এই ইস্যুতে সরাসরি শাহরুখ খানকে নিশানা করে বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছেন, তাদের ঘরবাড়ি পোড়ানো হচ্ছে, বোন-মেয়েদের উপর অত্যাচার চলছে এমন সময়ে একজন ভারতীয় তারকা কী করে সেই দেশের ক্রিকেটারকে দলে নেন?
টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন শাহ, সরকার আমাদেরই’, উত্তরবঙ্গ থেকে হুঙ্কার মিঠুনের
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটা কি ১০০ কোটি হিন্দুর ভাবাবেগকে আঘাত করা নয়? দেবকীনন্দনের মতে, শাহরুখকে ওই খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দিতে হবে এবং তার ফি’র টাকা বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোকে দিতে হবে।এই সমালোচনার জবাবে সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি।
তিনি দেবকীনন্দন ঠাকুরের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মৌলানা বলেছেন, “শাহরুখ খান একজন খেলোয়াড় কিনেছেন, খেলাধুলা আর ফিল্মে তো সীমান্ত থাকে না। শাহরুখ খান আর সলমান খান এমন অভিনেতা যারা সবচেয়ে বেশি দান-খয়রাত করেন। সরকারকে দেবকীনন্দন ঠাকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে, দেশে সংবিধান না বুঝে যা খুশি বিরোধিতা করার অভ্যাস গড়ে উঠেছে, বিশেষ করে যখন কোনো মুসলিম নাম জড়িত থাকে।
মৌলানা বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হিংসার নিন্দা করলেও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে মুসলিমদের উপর লক্ষ্য করে হামলার কথা কেন আলোচনা হয় না?এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে বিজেপি নেতা সংগীত সোমের মন্তব্যে। তিনি শাহরুখকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার থেকে শুরু করে অনেকেই শাহরুখের পক্ষ নিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আইপিএল আন্তর্জাতিক লিগ, খেলোয়াড় নির্বাচন ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে হয়।
খেলাকে রাজনীতি বা ধর্মের সঙ্গে মেশানো ঠিক নয়। শাহরুখ তো দেশপ্রেমিক চরিত্রে অনেক ছবি করেছেন, তাঁকে এভাবে আক্রমণ করা ভারতের বহুত্ববাদের উপর আঘাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতে ধর্ম, রাজনীতি আর খেলাধুলা কত সহজে জড়িয়ে যায়। একদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগ, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অসন্তোষ। মৌলানা রশিদির মতো নেতারা যখন বলছেন মুসলিমরা চুপ আছেন, কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা আছে তখন উত্তেজনা আরও বাড়ে।
