সুপ্রিম রায়: শুধু CBI নয়, কেন্দ্রীয় কর্মীদের দুর্নীতির তদন্ত করতে পারবে রাজ্য পুলিশও

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার তদন্তভার কি কেবল সিবিআই-এর? এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ…

dy-chandrachud-bail-remarks-sedition-controversy

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার তদন্তভার কি কেবল সিবিআই-এর? এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধু সিবিআই বা কেন্দ্রীয় সংস্থা নয়, রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটা যে কোনো দুর্নীতির তদন্ত করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে রাজ্য পুলিশের। এমনকি অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় কর্মচারী হলেও তদন্ত বা চার্জশিট পেশে কোনো বাধা থাকবে না।

Advertisements

মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

ঘটনাটি রাজস্থানের। সেখানে একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে এক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ এবং আদালতে চার্জশিট পেশ করে। ওই কর্মচারীর দাবি ছিল, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের এক্তিয়ার কেবল সিবিআই-এর রয়েছে। রাজস্থান হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

   

বিচারপতি জেবি পারদিওয়াল এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শোনার পর সাফ জানায়, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর অধীনে রাজ্য পুলিশ বা রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, তদন্তের জন্য ‘যথাযথ সরকারের’ অনুমোদনের প্রয়োজন থাকলেও তার মানে এই নয় যে, তদন্ত কেবল নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

‘যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে’ ঢাল করা যাবে না SC corruption investigation ruling

শীর্ষ আদালত তার রায়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, কোনো কেন্দ্রীয় কর্মচারীই দুর্নীতির তদন্ত এড়াতে দেশের ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে’ (Federal Status) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হওয়ার সুবাদে রাজ্য পুলিশের তদন্ত থেকে ছাড় পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। রাজ্যের সীমানার মধ্যে যে কোনো দুর্নীতির অভিযোগে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সে রাজ্যের প্রশাসনের হাতেই ন্যস্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই রায়ের গুরুত্ব

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। প্রশাসনিক কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে দুর্নীতিবাজরা পার না পেয়ে যায়, এই রায় তা নিশ্চিত করবে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলে আসছে যে, কেন্দ্র সিবিআই বা ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য প্রশাসনের হাত বেঁধে রাখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে সেই আইনি বাধা দূর হলো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্য পুলিশের ক্ষমতা আরও সুসংহত হলো।

Advertisements