সরকারি জমিতে অবৈধ মাদ্রাসা-মসজিদে বুলডোজার যোগীর

sambhal-bulldozer-action-illegal-mosque-madrasa

নয়াদিল্লি: ফের উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার অভিযান ঘিরে চরম বিতর্ক (Sambhal bulldozer)। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবার সম্ভল জেলায় সরকারি জমি জবরদখল করে তৈরি হওয়া একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দিল।

রবিবার গভীর রাতে দীপা সরাই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রেখে প্রশাসন একাধিক ‘অবৈধ’ নির্মাণ ভেঙে দেয়, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

   

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভলের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগ যাচাই করেই এই বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। অভিযানের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলেন বলেও জানানো হয়েছে।

হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার পর ফের দেখা মিলল ভুতুড়ে গ্রহের, ক্যাপচার করল হাবল টেলিস্কোপ

এই অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে সম্ভলের বহুচর্চিত শাহি মসজিদ বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, মোগল সম্রাট বাবরের আমলে হরিহর মন্দির ভেঙে শাহি মসজিদ তৈরি হয়েছিল। এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত বছর এই ইস্যু ঘিরে সম্ভল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনাও ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সম্ভল প্রশাসন ও পুলিশ বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা-সহ অন্যান্য অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, এটি কোনও ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সম্ভলের জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া এবং জেলার পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি ও অন্যান্য বেআইনি কাজের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে সম্ভলে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বড় পরিসরে ধরপাকড় শুরু করে। হিংসায় অভিযুক্তদের বাড়িতে আগেও বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সরকারি জমিতে তৈরি হওয়া অবৈধ মসজিদ ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল।

অন্যদিকে, শাহি মসজিদ কমিটি এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ১৯৯১ সালের ‘উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন’-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও মন্দির, মসজিদ বা গির্জার ধর্মীয় চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় যেখানে যা ছিল, সেটাই বজায় রাখতে হবে। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে দাবি মসজিদ কমিটির।

তাদের আরও বক্তব্য, এই আইনের একমাত্র ব্যতিক্রম অযোধ্যার রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদ মামলা। অর্থাৎ, স্বাধীনতার আগে কোনও মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়ে থাকলেও বর্তমানে যেখানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে মসজিদই থাকার কথা। সেই কারণে শাহি মসজিদ সংক্রান্ত দাবিকে তারা সম্পূর্ণভাবে আইন-বিরোধী বলে মনে করছে।

সব মিলিয়ে সম্ভলের বুলডোজার অভিযান আবারও উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সামনে এনেছে। একদিকে প্রশাসন একে ‘আইনের শাসনের সাফল্য’ বলছে, অন্যদিকে ধর্মীয় ও আইনি প্রশ্ন তুলে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে। আদালতের রায় এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন