
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল (Sajeeb Wazed Joy) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্য। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন ঘোষণার পর এবং আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রথমবার মুখ খুলে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে একটি “ইসলামী শাসনব্যবস্থা” প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা শুধু দেশের জন্য নয়, ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ভারত প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে দিল্লি চরমপন্থী কার্যকলাপ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দেয়। ঠিক সেই দিনই আমেরিকায় অবস্থানরত ৫৪ বছর বয়সি জয় এই সাক্ষাৎকারে নিজের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর গভীরে রয়েছে চরমপন্থী শক্তির উত্থান। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত সেই শক্তিগুলির জন্য জায়গা তৈরি করছে, যার সরাসরি প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় জয়কে। শেখ হাসিনা ও তিনি নির্বাসনে, অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমান এখনও দেশে ফেরেননি এই পরিস্থিতি কি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক রাজবংশের অবসান ঘটাতে চলেছে?
এই প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, তাঁর মা কখনও রাজবংশ গড়ার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেননি। ১৯৭৫ সালে তাঁর নানাসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর ন্যায়বিচারের খোঁজেই শেখ হাসিনা রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। জয় বলেন, “আমি যদি তাঁর জায়গায় থাকতাম, আমিও একই কাজ করতাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিস্থিতি খুব দ্রুত নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমান অবস্থাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে যখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দল কীভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে, এই প্রশ্নে জয় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আওয়ামী লীগকে একটি আদেশ দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, ঐতিহাসিকভাবে দলটি প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে এসেছে, যা দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। লক্ষ লক্ষ কর্মী ও সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই থাকবে।
বর্তমানে দলের শতাধিক এমপি ও নেতা নির্বাসনে, শত শত নেতা-কর্মী জেলে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও জয় আশাবাদী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ আন্দোলন চলছেই এবং তা আরও তীব্র হবে। তাঁর কথায়, “আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। আমরা ফিরে আসব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই বক্তব্য শুধু আওয়ামী লীগের অবস্থান স্পষ্ট করে না, বরং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর টানতে পারে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।









