সবরিমালা: সবরিমালা মন্দিরের (Sabarimala temple)সোনার কেলেঙ্কারিতে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। দ্বারপালক মূর্তি এবং সংক্টাম স্যাঙ্কটোরামের দরজার ফ্রেম ছাড়াও আরও অনেক মন্দিরের আর্টিফ্যাক্ট থেকে সোনা উধাও হয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রভা মণ্ডলমের সাতটি তামার প্লেট থেকে সোনা উধাও, যেগুলোতে শিব এবং ব্যালি রূপমের মূর্তি খোদাই করা ছিল।
এসআইটি আদালতে জানিয়েছে, এই সোনা রাসায়নিক মিশ্রণ ব্যবহার করে চেন্নাইয়ের স্মার্ট ক্রিয়েশনস নামক প্রতিষ্ঠানে আলাদা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা কর্ণাটকের বেল্লারি শহরের জুয়েলার গোবর্ধন রোড্ডামের কাছে রয়েছে। এই ঘটনা ভক্তদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে, কারণ এটি শুধু চুরি নয়, বরং বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা।
পাক বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুলে ‘হটাৎ বিস্ফোরক’ এই অজি তারকা, কেন?
এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন মন্দিরের গোল্ড-প্লেটেড তামার কভারিংগুলো রিপেয়ার এবং রি-প্লেটিংয়ের নামে বাইরে পাঠানো হয়। ত্রাভাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের তত্কালীন কর্তারা এগুলোকে শুধু তামার প্লেট বলে রেকর্ড করেন, যদিও সেগুলোতে প্রচুর সোনা লেপা ছিল। প্রধান অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টি, যিনি একজন স্পনসর এবং প্রাক্তন সহকারী পুরোহিত, এই আর্টিফ্যাক্টগুলো চেন্নাইয়ে নিয়ে যান। সেখানে স্মার্ট ক্রিয়েশনসের মালিক পঙ্কজ ভান্ডারি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সোনা আলাদা করেন।
এরপর অবশিষ্ট সোনা বেল্লারির রোড্ডাম জুয়েলার্সের গোবর্ধনের কাছে বিক্রি করা হয়। এসআইটি ইতিমধ্যে ভান্ডারি এবং গোবর্ধনকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১০৯ গ্রাম এবং ৪৭৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে। কিন্তু তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে চুরি যাওয়া সোনার পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।প্রভা মণ্ডলম হলো মন্দিরের সংক্টামের প্রবেশপথের উপরের অংশ, যেখানে শিব এবং ব্যালি (ড্রাগন-সদৃশ প্রতীকী মূর্তি) খোদাই করা।
এখানকার সাতটি প্লেটে দশাবতার, রাশি চিহ্ন এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক ছিল। এগুলো ১৯৯৮-৯৯ সালে শিল্পপতি বিজয় মাল্যার দান করা ৩০ কেজিরও বেশি সোনা দিয়ে লেপা হয়েছিল। এসআইটি জানিয়েছে, দ্বারপালক মূর্তি, পিলার প্লেট এবং দরজার ফ্রেম ছাড়াও এই প্রভা মণ্ডলমের প্লেট থেকে সোনা লুট হয়েছে। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সোনা আলাদা করার এই ল্যাবরেটরি-স্টাইলের চুরি ভক্তদের কাছে অকল্পনীয়।
এটি শুধু অর্থের লোভ নয়, বরং পবিত্র বিশ্বাসের অপমান।কেরল হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এসআইটি ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে সিপিআই(এম)-এর দুই প্রাক্তন নেতা এবং দেবস্বম বোর্ডের কর্তারা রয়েছেন।
সোনার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ভিএসএসসি (ইসরোর ভিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার)-এর বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তারা প্লেটগুলোর স্যাম্পল টেস্ট করে বলবে কতটা সোনা মূলত ছিল। এসআইটি আদালতে বলেছে, উদ্ধার হওয়া সোনা চুরির পরিমাণের তুলনায় খুবই কম। এতে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে যে আরও অনেক সোনা লুট হয়ে অন্যত্র সরানো হয়েছে।
