“দিল্লি-মস্কো বন্ধন ভাঙা অসম্ভব”, ট্রাম্পের চাপের মুখে কড়া মন্তব্য রাশিয়ার

Putin Arrives in India, Meets Modi at Rashtrapati Bhavan Amid Anticipation
Putin Arrives in India, Meets Modi at Rashtrapati Bhavan Amid Anticipation

নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপাচ্ছেন এবং রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দিল্লিকে চাপে রাখছেন, তখন মস্কো থেকে এল দৃঢ় আশ্বাসের বার্তা। রবিবার রুশ বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিল, দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এবং এই সম্পর্ক ভাঙার যেকোনো চেষ্টা আগেভাগেই ব্যর্থ হতে বাধ্য।

ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব অটুট

রুশ বিদেশ মন্ত্রকের ভাষায়, “ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। যাঁরা এই বন্ধন নষ্ট করতে চাইছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হবে।”

   

এই মন্তব্য শুধুই কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভারতের অবস্থানের প্রতি একপ্রকার কৃতজ্ঞতাও। কারণ, ওয়াশিংটন ও ন্যাটো দেশের লাগাতার চাপ, হুঁশিয়ারি ও হুমকি সত্ত্বেও দিল্লি রুশ তেল কেনা বন্ধ করেনি। রাশিয়ার বক্তব্যে তাই স্পষ্ট হয়েছে ভারতের এই দৃঢ়তা দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কৌশলগত স্বাধীনতা Russia supports India 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেছে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া, সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া, এটাই ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ভিত্তি।”

আজকের দিনে দুই দেশের সহযোগিতা কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশ থেকে পারমাণবিক শক্তি, যৌথ সামরিক ও বেসামরিক উৎপাদন, এমনকি রাশিয়ায় ভারতীয় বিনিয়োগ, সব ক্ষেত্রেই এই সম্পর্ক প্রসারিত। পাশাপাশি, মুদ্রা বিনিময়ের নতুন পথ, বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম এবং পরিবহন-লজিস্টিক রুট গড়ে তোলার কাজও চলছে একসঙ্গে।

শুল্ক চাপানো

এমন এক সময়েই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর একের পর এক শুল্ক চাপিয়েছে, ২৫% মূল শুল্কের সঙ্গে আরও ২৫% শাস্তিমূলক শুল্ক। যুক্তি, ভারত নাকি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে “পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে।” দিল্লি তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছে—এ অভিযোগ “অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য।”

যদিও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিল এখন ঠান্ডা, তবু কূটনৈতিক মহল মানছে আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে বন্ধ নয়। তবে ভারত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, কৃষি ও দুগ্ধ খাত তার কাছে অচলাবস্থা ভাঙার মতো কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয় নয়।

দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্কের এই দৃঢ়তা যেন একটাই বার্তা দিচ্ছে, রাজনৈতিক চাপ আসবে, অর্থনৈতিক শুল্ক বাড়বে, কিন্তু সাত দশকের আস্থা ও সহযোগিতা এত সহজে ভাঙার নয়।

Bharat: Russia’s Foreign Ministry declares its partnership with India is unbreakable and time-tested. The statement praises Delhi’s strategic autonomy amid US pressure over Russian oil imports.

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন