নয়াদিল্লি: ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন বড় নাশকতার ছক পাকিস্তানের (Republic Day)। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ এ মহম্মদ এই নাশকতা পরিচালনা করতে চলেছে বলে ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তাতে একা পাকিস্তানের পক্ষে জৈশকে মদত দেওয়া সম্ভব কি ? উঠে আসছে এমনই কিছু প্রশ্ন।
কিছু সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে এই নাশকতার পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও মাথা। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই আমেরিকা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সন্দেহ করেছেন। কারণ সম্প্রতি সেনা প্রধান অসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একাধিকবার আমেরিকা গিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে এখন ভারত মেক ইন ইন্ডিয়ায় বিশ্বাসী তাই এখন সেমি কন্ডাক্টর থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সমস্ত ক্ষেত্রেই ভারত সাবলম্বী।
হিরণকে ভাইফোঁটা দিতেন হৃতিকা? পুরনো ছবি ফাঁস হতেই বিস্ফোরক প্রথম স্ত্রী
তাছাড়া রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে বহুদিন ধরেই ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন চলছে। বহুবার ভারতকে সতর্ক করে বা শুল্ক ছাপিয়েও আমেরিকা ভারতকে বাগে আনতে পারেনি। এছাড়া কূটনৈতিকদের মতে ভারতে টি ২০ বিশ্বকাপের আগে নাশকতার আতঙ্ক তৈরী করা। কারণ এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারতে আসবে না বলেছে। ঠিক সেই কারণে নাশকতা ঘটিয়ে ভারতের বদনাম করার চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তান। তবে এটাও ঠিক যে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা যে রকম তাতে একার পক্ষে এতো বড় নাশকতায় সাহায্য করা পাকিস্তানের পক্ষে অসম্ভব। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সমন্বয়ে ‘২৬-২৬’ নামে একটা অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা।
এই কোডনেম সরাসরি ২৬ জানুয়ারিকে ইঙ্গিত করে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সারা দেশে, বিশেষ করে দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর, অযোধ্যার রাম মন্দির এবং জম্মুর রঘুনাথ মন্দিরের মতো সংবেদনশীল স্থানে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। দিল্লি পুলিশ ওয়ান্টেড পোস্টার লাগিয়েছে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট মোহাম্মদ রেহানের, যে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। তবে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এখন ফুল অ্যালার্টে। দিল্লিতে কার্তব্য পথে প্রযুক্তি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এনএসজি-সহ ফোর্স মোতায়েন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ‘সিঁদুর’ ফর্মেশন রাফায়েল, সু-৩০, মিগ-২৯, জাগুয়ার—দেখিয়ে ভারত দেখাবে, নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই। এই ছক ব্যর্থ করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রজাতন্ত্র দিবস শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হোক এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু নেপথ্যের খেলা যাই হোক, ভারতের জবাব সবসময় দৃঢ়।
