বঙ্গে মোদী! এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের সতর্কতায় বাড়ল নিরাপত্তা

নয়াদিল্লি: ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day)আগে দেশজুড়ে ফের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াল গোয়েন্দা সতর্কতা। ইন্টেলিজেন্স সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি…

republic-day-terror-alert-khalistani-bangladesh

নয়াদিল্লি: ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day)আগে দেশজুড়ে ফের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াল গোয়েন্দা সতর্কতা। ইন্টেলিজেন্স সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক কিছু সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলি দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড় শহরকে লক্ষ্য করে নাশকতার ছক কষতে পারে।

Advertisements

বিশেষ করে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের সময় ভিড়, চলাচল এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

   

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে প্রার্থী অভিষেক? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

গোয়েন্দা সতর্কবার্তায় আরও একটি গুরুতর দিক উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের একাধিক কুখ্যাত গ্যাংস্টার এখন আর শুধু অপরাধজগতেই সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে তারা খালিস্তানি জঙ্গি এবং বিদেশে বসে থাকা উগ্রপন্থী হ্যান্ডলারদের “ফুট সোলজার” বা মাটির সৈনিক হিসেবে কাজ করছে। বিদেশে থাকা এই হ্যান্ডলাররা সরাসরি হামলায় যুক্ত না হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে সক্রিয় অপরাধচক্রকে ব্যবহার করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গ্যাংস্টাররা চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, মাদক ব্যবসা এবং খুনের মতো অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি এখন সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অপরাধজগত আরও সংগঠিত হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও জটিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘ক্রাইম-টেরর নেক্সাস’ বা অপরাধ ও সন্ত্রাসের যোগসূত্রই বর্তমানে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, স্থানীয় অপরাধীরা এলাকার ভূগোল, মানুষের চলাফেরা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা ভালোভাবে জানে। ফলে বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে তারা সহজেই নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।

বাংলাদেশ-ভিত্তিক কিছু জঙ্গি সংগঠনের নামও এই গোয়েন্দা সতর্কতায় উঠে এসেছে। যদিও সরকারি স্তরে এখনই নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ঘিরে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন নজরদারি, CCTV মনিটরিং এবং হাই-অ্যালার্ট চেকিং চালু করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, ব্যাগ বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, নাগরিক সচেতনতা এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই গোয়েন্দা সতর্কতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখন শুধু সীমান্তের বাইরে নয়, দেশের ভেতরেও নতুন রূপ নিচ্ছে। অপরাধ এবং সন্ত্রাসের এই জোট ভাঙতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের সতর্কতা ও সহযোগিতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

Advertisements