প্রজাতন্ত্র দিবসে অপারেশন সিঁদুরের ঝলক দেখাবে সেনা

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) দেশের আকাশে শক্তির অনন্য প্রদর্শন করতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো বিশেষ ‘সিঁদুর’ ফরমেশন…

republic-day-2026-operation-sindoor-iaf-flypast-formation

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) দেশের আকাশে শক্তির অনন্য প্রদর্শন করতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো বিশেষ ‘সিঁদুর’ ফরমেশন উপস্থাপন করা হবে, যা অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য ও ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হবে।

Advertisements

এই শক্তিশালী সিঁদুর ফরমেশনে মোট সাতটি যুদ্ধবিমান অংশ নেবে। এর মধ্যে থাকবে ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক যুদ্ধক্ষমতার প্রতীক দুইটি রাফাল, দুইটি সুখোই-৩০ এমকেআই, দুইটি মিগ-২৯ এবং একটি জাগুয়ার বিমান। এই ফরমেশন ভারতের আকাশে আধিপত্য এবং যৌথ যুদ্ধক্ষমতার স্পষ্ট বার্তা দেবে।

   

সিঁদুর ফরমেশনের পাশাপাশি প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরমেশন প্রদর্শিত হবে— প্রহার এবং গরুড়। প্রহার ফরমেশনে যুদ্ধ বিন্যাসে উড়বে তিনটি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH)। এর মধ্যে দুটি থাকবে ভারতীয় সেনার এবং একটি ভারতীয় বায়ুসেনার। এই ফরমেশনটির নেতৃত্ব দেবে অপারেশন সিঁদুরের পতাকা বহনকারী একটি হেলিকপ্টার। এর ঠিক পরেই একই ধরনের যুদ্ধ বিন্যাসে আকাশে হাজির হবে গরুড় ফরমেশন।

এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টে মোট ২৬টি বিমান অংশ নেবে। এর মধ্যে থাকবে ১৬টি ফাইটার জেট, চারটি পরিবহণ বিমান এবং নয়টি হেলিকপ্টার, যা তিন বাহিনীর সমন্বিত শক্তির বার্তা দেবে।

অপারেশন সিঁদুর

পাহেলগাম জঙ্গি হামলার পর ভারত শুরু করে অপারেশন সিঁদুর। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে এই অভিযানের আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) গভীরে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। পরবর্তী তিন দিনে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত মোট নয়টি উচ্চ-মূল্যের জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয়।

এই হামলা শুধু PoJK-তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ভারতের আঘাত পৌঁছে যায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভীরে, যা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বাহাওয়ালপুরের মতো সংবেদনশীল জঙ্গি কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়, যেখানে আগে পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ড্রোন পাঠাতে সাহস করেনি।

ভারতের এই ব্যাপক ও নির্ভুল আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতের DGMO-র কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়। ১০ মে সন্ধ্যা থেকে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই অভিযানে জঙ্গি পরিকাঠামোর সর্বাধিক ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে, একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি ছিল ন্যূনতম।

এখনও চলছে অপারেশন সিঁদুর

গত সপ্তাহে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। জয়পুরে সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডে একটি ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে এবং শত্রুপক্ষের প্রতিটি গতিবিধির উপর আমরা কড়া নজর রাখছি।”

তিনি আরও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর ছিল আমাদের দৃঢ় সংকল্পের ফল। মাত্র ৮৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের নির্ভুলতা, পেশাদারিত্ব ও অপারেশনাল শ্রেষ্ঠত্ব পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছে। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্ণায়ক সক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ।”

প্রজাতন্ত্র দিবসের আকাশে সিঁদুর ফরমেশনের এই প্রদর্শন তাই শুধু একটি কুচকাওয়াজ নয়, বরং ভারতের শক্তি, সংকল্প ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেই উঠে আসবে।

Advertisements