নয়াদিল্লি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে (Azad Hind)দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘পরাক্রম দিবস’। এই বিশেষ দিনে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নাম বদলে ‘আজাদ হিন্দ’ করার দাবি জানালেন প্রাক্তন সাংসদ ও তেলেঙ্গানা জাগৃতি সংগঠনের সভাপতি কে কবিতা। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন বলে জানিয়েছেন।
তেলেঙ্গানা জাগৃতি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা তেলেঙ্গানার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। কবিতা বলেন, এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের মাধ্যমে ১৯৪৩ সালে গঠিত আজাদ হিন্দের অস্থায়ী সরকারের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো হবে। সেই সময়েই আন্দামান ও নিকোবরকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত প্রথম ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রজাতন্ত্রে বড় নাশকতার ছক পাকিস্তানের! নেপথ্যে আসল ভিলেন কে ?
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে কে কবিতা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রস, নীল ও হ্যাভেলক দ্বীপের নাম পরিবর্তন করা হলেও পুরো দ্বীপপুঞ্জ এখনো ঔপনিবেশিক আমলে দেওয়া নাম বহন করে চলেছে। তাঁর দাবি, এই নাম ব্রিটিশদের দেওয়া, ভারতের নিজস্ব ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যার কোনও সামঞ্জস্য নেই।
চিঠিতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নাম পরিবর্তনের আর্জি জানান। এই উদ্যোগের সমর্থকদের মতে, ‘আজাদ হিন্দ’ শুধু একটি নাম নয়, বরং নেতাজির নেতৃত্বে ভারতের প্রথম সার্বভৌম স্বাধীনতার প্রতীক।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কে কবিতা বলেন, “আজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী। তিনি দেশ ছেড়ে গিয়ে কূটনৈতিক দক্ষতায় জাপানের সহায়তা চেয়েছিলেন এবং ব্রিটিশদের হাত থেকে আন্দামান ও নিকোবর দখল করেছিলেন। সেখানেই তিনি ১৯৪৭-এর অনেক আগেই ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দ্বীপপুঞ্জের নাম দেন আজাদ হিন্দ।”
তিনি আরও বলেন, “এটা আমাদের জাতীয় স্মৃতি। অনেক আগেই এই সম্মান দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখছি। বিজেপি অনেক নাম পরিবর্তন করেছে সবগুলোর সঙ্গে আমি একমত নই। কিন্তু নেতাজি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, এমন এক শক্তি, যাঁকে সম্মান জানানো জাতির কর্তব্য। আন্দামান ও নিকোবর নামটি ব্রিটিশদের দেওয়া, আমাদের নয়। তাই ‘আজাদ হিন্দ’ নামটাই হওয়া উচিত।”
কে কবিতার মতে, এই নাম পরিবর্তন আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধার নিদর্শন হবে এবং দেশের যুবসমাজের কাছে এক চিরন্তন প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেবে।
