লখনউ: উত্তরপ্রদেশের বদায়ূন জেলায় সম্প্রতি একটি ঘটনা মানুষের নজর কেড়েছে (Uttar Pradesh)। এই ঘটনা যা সমাজের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। এক মুসলিম পরিবারের যুবতী নূরভি তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক রাজকুমারের সঙ্গে মন্দিরে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম বদলে রেখেছেন মাহি কাশ্যপ।
এই ‘ঘর ওয়াপসি’ ও প্রেমবিবাহের পর তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারাত্মক হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে মাহি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি প্রশাসনের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।ঘটনার সূত্রপাত অনেকদিন আগের। নূরভি ও রাজকুমারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কয়েক বছর ধরে।
SSC মামলায় ‘সুপ্রিম’ মোড়: বয়সের ছাড়ে স্থগিতাদেশ, কী হবে যোগ্যদের?
দুজনেই একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে পরিবারের সম্মতি পাওয়া কঠিন ছিল। নূরভির পরিবার কখনোই এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিল না। অনেক বোঝানো, অনেক কান্নাকাটি, অনেক আলোচনা কিছুই কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত দুজনে সিদ্ধান্ত নেন যে তারা নিজেদের মতো করে জীবন শুরু করবেন।গত কয়েকদিন আগে বদায়ূনের একটি প্রাচীন মন্দিরে তারা দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিবাহ অনুষ্ঠানে হিন্দু রীতি মেনে সাত ফেরা হয়। একইসঙ্গে নূরভি ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নামকরণ হয় মাহি কাশ্যপ। রাজকুমারের পদবি অনুসারে এই নামটি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিবাহের পর দুজনে সুখের সংসার শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নে ফাটল ধরাতে খুব বেশি সময় লাগেনি।বিবাহের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নূরভির (বর্তমানে মাহি) পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। পরে হুমকির মাত্রা বাড়তে থাকে। “তুই ধর্ম ছেড়েছিস, এর শাস্তি তোকে পেতেই হবে”, “আমরা তোকে ছাড়ব না”, “যেখানেই থাকিস, তোকে খুঁজে বের করব” এমন অনেক কথা বলা হয়েছে বলে মাহির দাবি। কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে মাহি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় ধর্ম বেছে নিয়েছি। আমি আমার সঙ্গীর সঙ্গে সুখে থাকতে চাই। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি পাচ্ছি। আমার ও আমার স্বামীর জীবন বিপন্ন। দয়া করে পুলিশ প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিন।”
