
প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhavan) এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছর, রাষ্ট্রপতি ভবন একটি বিশেষ আমন্ত্রণ পত্র তৈরি করেছে যা শুধুমাত্র আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের দক্ষ কারিগরদের নিপুণ শিল্পশৈলী বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস। রাষ্ট্রপতি ভবনের ঐতিহাসিক ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা এই বিশেষ আমন্ত্রণ পত্রটি ইতিমধ্যেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের (Rashtrapati Bhavan) এই উদ্যোগের মাধ্যমে, শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রদায়কেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ভারতীয় শিল্পকলার এক নতুন পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য যেমন মেঘালয়, মণিপুর, অসম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, মিজোরাম, আরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিম, সেখানে বাস করা দক্ষ কারিগররা বহু বছর ধরে তাদের হাতে তৈরি নানা ধরনের শিল্পকর্মে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তাদের শিল্পশৈলী নানা রকমের পোশাক, তাঁত, শীতবস্ত্র, কাঠের পুতুল, ঝালর, হস্তশিল্প এবং অদ্বিতীয় ডিজাইনগুলোতে প্রতিফলিত হয়। এই বিশেষ আমন্ত্রণ পত্রটি তৈরি করার পেছনে ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের শিল্পকলার প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবনের (Rashtrapati Bhavan) একটি গভীর শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি। এটি কেবল একটি কাগজের টুকরো নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক বার্তা যা দেশের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য এবং শিল্পকলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। আমন্ত্রণ পত্রে ব্যবহৃত ডিজাইন এবং উপকরণ সবই উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থানীয় কারিগরের হাতে তৈরি, যা তাদের শিল্পকলার প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিশেষ সম্মানকে চিহ্নিত করে।
অবশ্যই, এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের শিল্পীরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের শিল্প প্রদর্শন করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে, এই আমন্ত্রণ পত্রের ডিজাইন এবং ব্যবহৃত উপকরণগুলির মধ্যে একধরনের ঐতিহ্যগত বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। এতে কিছু স্থানীয় তাঁতের কাজ, নকশি কাঁথা, প্রাকৃতিক রঙে আঁকা পেইন্টিং এবং কাঠের কারুকাজও রয়েছে, যা ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি প্রামাণিক চিত্র তুলে ধরে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের (Rashtrapati Bhavan) এই পদক্ষেপটি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে – উত্তর-পূর্ব ভারতের শিল্পীরা যেভাবে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ভবন তাদের কাজের প্রশংসা জানাচ্ছে এবং তাদের উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে, এই অঞ্চলের শিল্পীরা নানা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, তারা কখনও তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে দেননি। তাদের কাজগুলো একদিকে যেমন তাদের ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রেখেছে, অন্যদিকে, এগুলো তাদের জীবনধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নয়, বরং ভারতের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করার এক প্রয়াস। রাষ্ট্রপতি ভবনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী হবে। বিশেষ করে, উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্য এবং শিল্পকে তুলে ধরার মাধ্যমে, ভারতের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ আরও সমৃদ্ধ হবে।
এটি দেশের সাধারণ জনগণকেও সংস্কৃতির প্রতি তাদের দৃষ্টি বদলানোর এবং আরও গভীর আগ্রহ তৈরি করার সুযোগ দেবে। যখন শিল্প, কারিগরি এবং সংস্কৃতি একত্রিত হয়, তখন তা দেশের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। এই অভিনব উদ্যোগটি বিশ্বমঞ্চে ভারতের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনের এই পদক্ষেপটি যে কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতের কারিগরদের শিল্পকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, তা নয়, বরং এটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, যা ভারতের অসীম বৈচিত্র্যের প্রমাণ।










