আগামীকাল মোদীর হাতে সূচনা রাম মন্দিরের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের

ram-mandir-ram-dhwaj-inauguration-ayodhya-modi

অযোধ্যা, ২৪ নভেম্বর: পাঁচশো বছরের অপেক্ষার পর যে মন্দির দাঁড়িয়েছে, সেই শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরে কাল, ২৫ নভেম্বর, ইতিহাসের আরেকটি স্বর্ণোজ্জ্বল পাতা যোগ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে উপস্থিত থেকে ১৯১ ফুট উঁচু মন্দিরের শিখরে উত্তোলন করবেন প্রাচীন রাম ধ্বজ সেই গেরুয়া পতাকা, যার মাঝে থাকবে ‘ওঁ’, সূর্যচিহ্ন আর কোভিদার (অপরাজিতা) বৃক্ষের চিহ্ন। এই পতাকা শুধু কাপড় নয়, এটা সনাতন ধর্মের অজেয়তার প্রতীক, যা হাজার হাজার বছর ধরে রামভক্তদের হৃদয়ে জ্বলছে।

আজ সারা অযোধ্যা যেন এক বিশাল ফুলের বাগান। শুধু মন্দির চত্বরেই নয়, সরযূ তীর থেকে রামপথ, ভক্তিপথ, জন্মভূমি পথ—সব রাস্তায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০০ টন গাঁদা, গোলাপ, জবা, চন্দনফুল। রাতের বেলায় লক্ষ লক্ষ দীপের আলোয় শহরটা যেন স্বর্গের প্রতিচ্ছবি। মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার মুখের সামনে ফুলের অপরূপ তোরণ, চারপাশে সোনালি আলোর মালা।

   

IMD-তে সরকারি চাকরি, পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ, বেতন ১ লক্ষেরও বেশি

মা অন্নপূর্ণা, মহাদেব, গণেশ-কার্তিক, হনুমানগড়ি সব উপমন্দিরগুলো আলোকিত। সরযূর ঘাটে ঘাটে চলছে অখণ্ড রামধুন।কাল সকাল থেকেই অনুষ্ঠান শুরু। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মা অন্নপূর্ণা মন্দিরে পূজা দেবেন, তারপর রামলালার দরবারে দর্শন। অভিজিৎ মুহূর্তে—দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে—তিনি একটি সোনার বোতাম টিপে পতাকা উত্তোলন করবেন। পতাকাটি ১০৮ ফুট লম্বা, বিশুদ্ধ খাদি-রেশমের তৈরি, হাতে কারুকাজ করা। এর সঙ্গে থাকবে ১৪ ফুট উঁচু সোনালি দণ্ড।

উত্তোলনের পর প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন যে ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ১৫০টির বেশি দেশে।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রায় ছয় হাজার বিশিষ্ট অতিথি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বলিউডের মহানায়ক অমিতাভ বচ্চন, ক্রিকেটের ভগবান সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, রতন টাটা, কাশী-অযোধ্যা-দক্ষিণ ভারতের ১০৮ জন শীর্ষ আচার্য, নেপাল-শ্রীলঙ্কা-মরিশাসের রামভক্ত প্রতিনিধি—সবাই থাকবেন।

তবে সাধারণ ভক্তদের জন্য ২৫ তারিখ দর্শন বন্ধ। নিরাপত্তার কারণে অযোধ্যার ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সব হোটেল-গেস্টহাউস খালি করা হয়েছে। এনএসজি, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, আইবি—সবাই সতর্ক।এই দিনটি আরও বিশেষ কারণ এটি বিবাহ পঞ্চমী—রাম-সীতার বিবাহের দিন। কাশীর পণ্ডিত গণেশ্বর শাস্ত্রীর নেতৃত্বে ১০৮ আচার্য মন্ত্রোচ্চারণ করবেন।

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেছেন, “এটা শুধু পতাকা উত্তোলন নয়, পাঁচশো বছরের সংগ্রামের বিজয় ঘোষণা। রামলালার মন্দির এখন সম্পূর্ণ।” যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, “কাল অযোধ্যা বিশ্বের আধ্যাত্মিক রাজধানী হয়ে উঠবে।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন