অযোধ্যার রাম মন্দির (Ram Mandir) উদ্বোধনের দুই বছর পূর্তিতে এক বিস্ময়কর অর্থনৈতিক চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঐতিহাসিক উদ্বোধনের পর থেকে রাম মন্দির শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগের কেন্দ্র নয়, ধীরে ধীরে তা পরিণত হয়েছে উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে। সরকারি ও মন্দির ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই বছরে রাম মন্দিরে অনুদান বাবদ মোট আয় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে মন্দির নির্মাণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও পরিষেবা খাতে।
রাম মন্দির ট্রাস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি ভক্ত ও পর্যটক অযোধ্যায় এসে রামলালার দর্শন করেছেন। শুধু ২০২৫ সালেই ভিড়ের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে। সরকারি হিসেব বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ২৩ কোটির বেশি মানুষ অযোধ্যায় গিয়েছেন। এই ধারাবাহিক ভিড়ের জেরে রাম মন্দির এখন বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক দর্শনীয় ধর্মীয় স্থানের তালিকায় উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অনুদানের অঙ্কও চোখে পড়ার মতো। দেশ-বিদেশের ভক্তরা নগদ অর্থ, অনলাইন ট্রান্সফার, সোনা-রুপো এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীর মাধ্যমে অনুদান দিয়েছেন। মন্দির ট্রাস্টের এক কর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার অনুদান জমা পড়ছে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে মন্দির চত্বরের উন্নয়ন, যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানো, ধর্মশালা, হাসপাতাল, পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিতে।
রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে অযোধ্যার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। পর্যটনের জোয়ারে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, হস্তশিল্প ও স্থানীয় ব্যবসায় অভূতপূর্ব বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, অযোধ্যা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP)-এর প্রায় ১.৫ শতাংশ অবদান রাখছে, যদিও জেলার জনসংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, রাম মন্দির কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে অযোধ্যা ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮,০০০ কোটিরও বেশি ছুঁতে পারে। ইতিমধ্যেই নতুন বিমানবন্দর, চার লেনের সড়ক, রেলস্টেশন আধুনিকীকরণ, নদীঘাট সংস্কারসহ একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বা শেষের পথে। এর ফলে শুধু অযোধ্যা নয়, আশপাশের জেলাগুলিও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাম মন্দির এখন একটি ‘ধর্মীয় ইকোনমিক হাব’-এ পরিণত হয়েছে। যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি একসঙ্গে মিশে গিয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আগের তুলনায় এখন তাঁদের রোজগার বেড়েছে কয়েক গুণ।
সব মিলিয়ে, রাম মন্দিরের দুই বছরের যাত্রাপথ শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও ঐতিহাসিক। অনুদানেই ৩,৫০০ কোটি টাকার আয় এবং তার প্রভাব রাজকোষ থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের জীবনে—সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট। আগামী দিনে এই প্রভাব আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন প্রশাসন ও অর্থনীতিবিদরা।
