
অযোধ্যা, ১৫ ডিসেম্বর: শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ (Big Decision on Ram Mandir)সভায় নেওয়া হয়েছে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ট্রাস্ট ঘোষণা করেছে যে, প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে ভগবান রাম লাল্লা তাঁর ভাইদের সঙ্গে যে স্থানে বিরাজমান ছিলেন, সেই পবিত্র জায়গায় একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। এছাড়া, এই মন্দিরের পাশেই তৈরি হবে একটি স্মারকস্তম্ভ, যা রাম মন্দির আন্দোলনের সময় প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত হবে।
এই সিদ্ধান্ত অযোধ্যার রাম মন্দির প্রাঙ্গণকে আরও পবিত্র ও অর্থবহ করে তুলবে, এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে গভীর আবেগ জাগিয়ে তুলেছে।মহন্ত নৃত্য গোপাল দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ট্রাস্টের সদস্যরা একমত হয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ট্রাস্টের এক্স (পূর্বতন টুইটার) পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “যে স্থানে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পূর্বে শ্রী রাম লাল্লা তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতৃগণের সঙ্গে বিরাজিত ছিলেন, সেখানে একটি মন্দির নির্মিত হচ্ছে এবং তার পার্শ্বে মন্দির আন্দোলনে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া শহীদদের স্মরণে একটি স্মারক নির্মিত হবে।”
এই ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার এনেছে।রাম মন্দির আন্দোলনের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ ও ত্যাগপূর্ণ। পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লক্ষ লক্ষ সাধু-সন্ত, করসেবক এবং সাধারণ ভক্ত এই আন্দোলনকে জীবিত রেখেছেন। ১৯৯০ সালে লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রা থেকে শুরু করে ১৯৯২ সালের ঘটনাবলী পর্যন্ত অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।
কোটারি ভাইদের মতো করসেবকরা এই আন্দোলনে অমর হয়ে আছেন। ট্রাস্টের এই সিদ্ধান্ত তাদের ত্যাগকে চিরস্থায়ী সম্মান জানাবে। স্মারকে সাধু-সন্ত, করসেবক এবং সাধারণ ভক্তদের নাম উল্লেখ করা হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে।পুরনো আসনে নতুন মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তও অত্যন্ত আবেগপূর্ণ।
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় রাম লাল্লার মূর্তি গর্ভগৃহে স্থাপিত হওয়ার আগে যে অস্থায়ী স্থানে তিনি বিরাজমান ছিলেন, সেই জায়গা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। এখানে মন্দির তৈরি হলে ভক্তরা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। রাম মন্দিরের মূল নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এখন প্রাঙ্গণের অন্যান্য অংশের উন্নয়ন চলছে। এই নতুন মন্দির ও স্মারক প্রাঙ্গণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।










