HomeBharatশত্রুদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কড়া বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

শত্রুদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কড়া বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

- Advertisement -

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পিছনে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) রবিবার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জনগণের ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে। নতুন দিল্লিতে সংস্কৃতি জাগরণ মহোৎসবে বক্তৃতার সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বাইসারান উপত্যকায় ২২ এপ্রিল সংঘটিত হামলার পর জনগণের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটান। এই নৃশংস হামলায় ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারান এবং ১৭ জন আহত হন।

রাজনাথ সিং বলেন, “আপনারা সকলেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর কর্মনীতি, সাহস এবং অটল সংকল্পের সঙ্গে পরিচিত। তিনি তার জীবনে যে ঝুঁকি নিয়েছেন, তা তার শক্তির প্রতিফলন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ‘জৈসা আপ চাহতে হ্যায়, বৈসা হোকর রহেগা’—জাতি যা দাবি করে, তাই হবে।” তিনি জনগণের প্রত্যাশার কথা সরাসরি উল্লেখ করেন।

   

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তাকে দেশের সীমানা রক্ষা করতে হবে এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টিকারীদের যথাযথ জবাব দিতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি জাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। যারা ভারতের ক্ষতি করার সাহস করে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

হামলার পর সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ শুরু করেছে, যাকে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অটারির ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) বন্ধ করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সার্ক ভিসা ছাড় স্কিম স্থগিত করা এবং তাদের ৪০ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া। উভয় দেশই তাদের নিজ নিজ হাই কমিশনে কূটনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা কমিয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি বাস্তবায়ন বন্ধ করেছে, যা নদীর সম্পদ ভাগাভাগি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃঢ় অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা—শুধু হামলাকারীরা নয়, এর মূল পরিকল্পনাকারীরাও—ন্যায়বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি এই হামলাকে ভারতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসের শেষ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করার সময় এসেছে। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের ইচ্ছাশক্তি সন্ত্রাসবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।”
রাজনাথ সিং তার বক্তৃতায় এই মনোভাবের প্রতিধ্বনি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের শক্তি কেবল তার সামরিক ক্ষমতার মধ্যেই নয়, বরং এর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মধ্যেও নিহিত, যা জাতির স্থিতিস্থাপকতাকে জ্বালানি দেয়।

পহেলগাঁও হামলা ও জাতীয় ক্ষোভ

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে সংঘটিত সবচেয়ে মারাত্মক হামলাগুলোর মধ্যে একটি। এই ঘটনা জাতীয় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও তিক্ত করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা জোরদার করার সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি স্পষ্ট: ভারত তার জনগণ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

রাজনাথ সিংয়ের বক্তৃতায় তিনি জাতির একতার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য আমাদের শক্তির উৎস। এই শক্তি আমাদেরকে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম করে।” তিনি আরও বলেন, পহেলগাঁও হামলার জবাবে সরকার কেবল সামরিক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে না, বরং কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ভারতের কূটনৈতিক কৌশল

পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত করা এবং সার্ক ভিসা ছাড় স্কিম বাতিল করার মতো পদক্ষেপগুলো দুই দেশের সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “আমরা কেবল হামলাকারীদের নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও খুঁজে বের করব। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনী এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে।” তিনি জাতিকে আশ্বস্ত করেন যে এই হামলার জবাব দ্রুত এবং কঠোর হবে।

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা ভারতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সরকার কূটনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তৃতা জাতির ঐক্য এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। ভারতীয় জনগণ এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ন্যায়বিচার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপেক্ষা করছে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular