প্রতিরক্ষায় নয়া মাত্রা যোগ করতে বড় সিদ্ধান্ত রাজনাথের

নয়া দিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে (Rajnath Singh)সোমবার এক বিশাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) সেনাবাহিনী,…

/rajnath-singh-dac-clears-79000-crore-defence-procurement

নয়া দিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে (Rajnath Singh)সোমবার এক বিশাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর জন্য প্রায় ৭৯,০০০ কোটি টাকার অস্ত্র, রকেট, মিসাইল, রাডার সিস্টেম এবং অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপটেন্স অফ নেসেসিটি’ (এওএন) দিয়েছে।

Advertisements

এই সিদ্ধান্ত দেশের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে দেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে এমনটাই জানিয়েছেন রাজনাথ সিংহ নিজে।

   

বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে তিনদিনের বঙ্গ সফরে অমিত শাহ

এই বিশাল প্রকিউরমেন্ট প্যাকেজে সেনাবাহিনীর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে লয়টার মিউনিশন সিস্টেম, লো লেভেল লাইট ওয়েট রাডার, পিনাকা মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের জন্য লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট অ্যামুনিশন এবং ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম মার্ক-টু।

লয়টার মিউনিশন বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ ট্যাকটিক্যাল টার্গেটে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম, যা আধুনিক যুদ্ধে গেমচেঞ্জার। লো লেভেল রাডার ছোট ছোট নিম্ন উড্ডয়নকারী ড্রোন শনাক্ত করবে, যা বর্তমানে বড় হুমকি। পিনাকার লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট দূরের উচ্চমূল্যের টার্গেট ধ্বংস করতে আরও নির্ভুল ও দূরপাল্লার ক্ষমতা দেবে।

আর ড্রোন ডিটেকশন সিস্টেম মার্ক-টু উন্নত রেঞ্জের সঙ্গে সেনার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষা করবে ট্যাকটিক্যাল ব্যাটল এরিয়া এবং হিন্টারল্যান্ডে।নৌবাহিনীর জন্য অনুমোদিত হয়েছে বলার্ড পুল টাগ, হাই ফ্রিকোয়েন্সি সফটওয়্যার ডিফাইন্ড রেডিও (এইচএফ এসডিআর) ম্যানপ্যাক এবং হাই অলটিটিউড লং রেঞ্জ (এইচএএলই) রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট সিস্টেম লিজ নেওয়া।

এইচএফ রেডিও বোর্ডিং অপারেশনে দীর্ঘদূরত্বের সুরক্ষিত যোগাযোগ বাড়াবে, আর এইচএএলই ড্রোন ভারত মহাসাগরে অবিরাম ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স এবং রেকনেসান্স নিশ্চিত করবে।বিমানবাহিনীর জন্য অনুমোদন পেয়েছে অটোমেটিক টেক-অফ ল্যান্ডিং রেকর্ডিং সিস্টেম, অ্যাস্ট্রা মার্ক-টু মিসাইল, লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট তেজাসের ফুল মিশন সিমুলেটর এবং স্পাইস-১০০০ লং রেঞ্জ গাইডেন্স কিট।

অ্যাস্ট্রা মার্ক-টু দূরপাল্লা থেকে শত্রু বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম, সিমুলেটর পাইলটদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী প্রশিক্ষণ দেবে, আর স্পাইস-১০০০ দীর্ঘদূরত্বের নির্ভুল আঘাতের ক্ষমতা বাড়াবে।এই সব প্রকিউরমেন্টের বেশিরভাগই ‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ ক্যাটাগরির অধীনে, অর্থাৎ দেশীয় উৎপাদনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আরও জোর পাবে, দেশীয় শিল্পের বিকাশ হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোন যুদ্ধ, দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল আঘাত এবং অবিরাম নজরদারির মতো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই আধুনিকীকরণ সশস্ত্র বাহিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

Advertisements