জাতীয় সড়কে গভীর রাতে তল্লাশি অভিযানের সময় প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করেছে রাজস্থান পুলিশ। রাজস্থানের (Rajasthan) টঙ্ক জেলায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় বিপুল পরিমাণ এই বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সুরেন্দ্র মোচি এবং সুরেন্দ্র পাটওয়া নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, টঙ্ক জেলার জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবেই ওই রাতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি বিস্ফোরক পাচারের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সূত্রেই প্রতিটি সন্দেহজনক গাড়ি ও পণ্যবাহী যান খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। ওই সময় একটি গাড়ির গতিবিধি পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়। গাড়িটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তল্লাশির সময় গাড়ির ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাসায়নিক পদার্থ, যা কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবে ব্যবহার হলেও বেআইনি ভাবে বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এত বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজনের নাম সুরেন্দ্র মোচি এবং অন্যজন সুরেন্দ্র পাটওয়া। দু’জনই রাজস্থানের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেনি। এর পরেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পদার্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ঘটনার পর রাজস্থান পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা জানান, এই উদ্ধার একটি বড় সাফল্য। যদি এই পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ভুল হাতে পৌঁছে যেত, তাহলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা ছিল। তাই সময়মতো অভিযান চালিয়ে তা আটকানো সম্ভব হওয়ায় পুলিশ স্বস্তি পেয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিশেষ সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই বিস্ফোরক কোনও বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না। ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, তারা এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এছাড়াও, এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানার জন্য তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, টঙ্ক জেলা দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক যাওয়ায় এখানে পণ্য পরিবহণের চাপ অনেক বেশি। সেই সুযোগ নিয়ে অনেক সময় বেআইনি সামগ্রী পাচারের চেষ্টা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থান পুলিশ নজরদারি আরও কড়া করায় একের পর এক পাচারের ঘটনা ধরা পড়ছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের তল্লাশি অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
