গেরুয়া রাজ্যে মন্দিরের জমি দখলকারী শানু মিয়াঁ কে উচিত শিক্ষা জনতার

raisen-khedapati-mata-temple-land-encroachment

ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলায় একটি প্রাচীন মন্দিরের জমি (Khedapati Mata Temple Land)ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অবশেষে নতুন মোড় নিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, খেদাপতি মাতার প্রাচীন মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের হাতেই সেই অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শানু মিয়াঁ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ওই মন্দির সংলগ্ন জমিতে বেআইনিভাবে দখল বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, জমিটি ঐতিহাসিকভাবে খেদাপতি মাতার মন্দিরের অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে ধর্মীয় আচার ও সামাজিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু সেই পবিত্র জমিতে ধীরে ধীরে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড গড়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।

   

রাম মন্দির নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ট্রাস্ট

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ ঝুলে থাকায় ক্ষোভ জমতে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। মন্দিরের জমিতে এই ধরনের কাজ চলতে দেখে আমাদের আর সহ্য হয়নি।”

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি ছিল, অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে মন্দিরের জমি উদ্ধার করতে হবে। আন্দোলনের জেরে এলাকায় জমে ওঠে উত্তেজনা, তবে কোনও বড় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

রবিবার সকালে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়, যখন স্থানীয় মানুষজন বিশেষ করে মহিলারা হাতুড়ি, শাবলসহ সাধারণ হাতের সরঞ্জাম নিয়ে অবৈধ কাঠামো ভাঙতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও কেউ কাউকে আক্রমণ করেননি। মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কাঠামো সরানো।

একজন মহিলা অংশগ্রহণকারী বলেন, “এটা আমাদের বিশ্বাসের জায়গা। প্রশাসন যখন কিছু করেনি, তখন আমরা বাধ্য হয়েই এগিয়েছি।” তাঁর কথায় উঠে আসে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও অবহেলার অনুভূতি। ঘটনার খবর পেয়ে পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জমির আইনি অবস্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, “আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, দখল সংক্রান্ত সমস্ত নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক গাফিলতি দীর্ঘদিন চললে কীভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাইসেনের এই ঘটনা শুধু একটি জমি বিতর্ক নয়, বরং স্থানীয় বিশ্বাস, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং সামাজিক শান্তির ভারসাম্য রক্ষার এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন