কেন বিরোধী দলনেতার রাম মন্দির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শঙ্করাচার্যের?

শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দের কড়া অভিযোগ (Rahul Gandhi)রাজনীতি ও ধর্মের মিলনস্থলে ফের একবার বিতর্ক ছড়িয়েছে। জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী স্পষ্ট করে বলেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী…

rahul-gandhi-ram-temple-entry-shankaracharya

শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দের কড়া অভিযোগ (Rahul Gandhi)রাজনীতি ও ধর্মের মিলনস্থলে ফের একবার বিতর্ক ছড়িয়েছে। জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী স্পষ্ট করে বলেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী হিন্দু নন, এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত।

Advertisements

এই বিতর্কের সূত্রপাত রাহুল গান্ধীর সম্ভাব্য অযোধ্যা সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর। বারাবাঁকির কংগ্রেস সাংসদ তনুজ পুনিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল শীঘ্রই রাম মন্দির দর্শন করতে পারেন। কিন্তু এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শঙ্করাচার্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী যদি অযোধ্যায় পৌঁছান, তাহলেও তাঁকে মন্দিরে ঢোকানো উচিত নয়। তিনি হিন্দুত্বকে অপমান করেন।”

   

বিজেপির উন্নয়ন মডেলে বিশ্বাসী জেন-জি! মালদহ থেকে বাংলা দখলের হুঙ্কার মোদীর

এই অভিযোগের পিছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানকে কংগ্রেস ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উল্লেখ করেছিল। রাহুল গান্ধী সেই অনুষ্ঠানে যাননি, এবং দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এটা বিজেপির ভোটের কৌশল। শঙ্করাচার্য বলেন, এমন ব্যক্তি যিনি রামলালার প্রতিষ্ঠাকে অসম্মান করেন, তাঁকে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার নেই। দ্বিতীয়ত, রাহুল গান্ধীর মনুস্মৃতি নিয়ে মন্তব্য।

গত বছর সংসদে তিনি মনুস্মৃতিকে ‘স্ত্রীবিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছিলেন, যা শঙ্করাচার্যের মতে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের অপমান। এর জন্য তিনি রাহুলকে ‘হিন্দুত্ব থেকে বহিষ্কার’ করেছেন বলে দাবি করেন। “যিনি হিন্দুদের অপমান করেন, তিনি মন্দিরে যাওয়ার যোগ্য নন,” বলেন অবিমুক্তেশ্বরানন্দ। তিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে অনুরোধ করেছেন রাহুলের প্রবেশ বন্ধ করতে। অযোধ্যার সাধু-সন্তরাও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।

তারা বলছেন, রাম মন্দির হিন্দুত্বের প্রতীক, এবং যারা এর প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক বলে অভিহিত করেন, তাদের সেখানে স্থান নেই। কিন্তু এই বিতর্কের অন্য দিকও আছে। পূর্বে এই শঙ্করাচার্য রাম মন্দিরের অসম্পূর্ণ অবস্থায় প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানকে ‘ধর্মবিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছিলেন এবং বিজেপিকে ‘তাড়াহুড়ো’র জন্য দোষারোপ করেছিলেন।

এমনকি রাহুলের ‘হিংসাত্মক হিন্দু’ মন্তব্যে তাঁর পক্ষে কথা বলেছিলেন, বলেন রাহুল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হিন্দুত্বকে নয়। “রাহুল কিছু ভুল বলেননি, হিন্দু ধর্মে হিংসার স্থান নেই,” বলেছিলেন তিনি।

কংগ্রেস এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাহুল গান্ধীর অযোধ্যা সফর নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কিন্তু দলের সূত্র বলছে এটা ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা দেওয়ার জন্য হতে পারে। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “শঙ্করাচার্যের বক্তব্য বিজেপির চাপে। রাহুল সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, এবং হিন্দুত্বকে কখনও অপমান করেননি।”

বিজেপি অবশ্য এই বিতর্ককে স্বাগত জানিয়েছে, বলছে এটা রাহুলের ‘হিন্দুবিরোধী’ মনোভাবের প্রমাণ।এই ঘটনা রাম মন্দিরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রশ্ন তোলে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মন্দির ইস্যু বিজেপির জয়ে ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু কংগ্রেস তখন থেকে ধর্মীয় স্থানে সফর করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। রাহুল গত বছর কেদারনাথ, বৈষ্ণোদেবী গিয়েছেন, কিন্তু অযোধ্যা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এখন যদি যান, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে সামলানো হবে?

Advertisements