একই ফ্রেমে রাহুল–আদানি, কিন্তু জ্বলল না ক্যামেরার ফ্ল্যাশ

Rahul Gandhi Adani Handshake

নয়াদিল্লি: রাজনীতিতে কথা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ‘অপটিক্স’ বা দৃশ্যত চিত্র তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারের জন্মদিনের নৈশভোজে ঠিক সেই বাস্তবতাই সামনে এল। যেখানে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং তাঁর লাগাতার সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা শিল্পপতি গৌতম আদানি মুখোমুখি হয়ে হাত মেলালেন, অথচ সেই মুহূর্তের একটিও ছবি প্রকাশ্যে আসতে দেওয়া হল না।

১১ ডিসেম্বর ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শারদ পাওয়ার এই উচ্চ-প্রোফাইল নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির ছবি প্রকাশিত হলেও, রাহুল এবং আদানির ছবি ছিল রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত।

   

সুপ্রিয়া সুলে নিশ্চিত করলেন, ছবি যেন না ওঠে

শারদ পাওয়ারের এই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বহু নেতা-মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি, যিনি বিজেপি সরকারের সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ করে একচেটিয়া ব্যবসা তৈরি করছেন—এই অভিযোগে রাহুল গান্ধী লাগাতার যাঁর সমালোচনা করে এসেছেন।

সাক্ষাৎ: বরিষ্ঠ সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই ও আদেশ রাওয়াল জানান, প্রথাগত কুর্তা-পায়জামা পরিহিত রাহুল গান্ধী ও গৌতম আদানি একে অপরের মুখোমুখি হন এবং করমর্দনও করেন।

গোপনীয়তা: সাংবাদিক আদেশ রাওয়াল আরও বলেন, সেই সময় শারদ পাওয়ারের কন্যা ও বারামতি লোকসভার সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে হস্তক্ষেপ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে তাঁদের করমর্দনের কোনও ছবি যেন কেউ না তোলে। তিনি এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

এমন একটি ‘বিস্ফোরক’ ছবি কংগ্রেসের আদানি-বিরোধী বক্তব্যকে মুহূর্তেই দুর্বল করে দিত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের কাছ থেকে অস্বস্তিকর প্রশ্নের জন্ম দিত।

বিজেপির তীব্র কটাক্ষ

রাহুল-আদানি সাক্ষাতের কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ না থাকলেও, বিজেপি এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি। বিজেপি মুখপাত্র মঞ্জু ভার্মা টুইট করেন, “সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে আদানির বিরুদ্ধে তীব্র চিত্কার করার পর, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা ভদরা দু’জনেই গৌতম আদানির সঙ্গে শারদ পাওয়ারের নৈশভোজে হাসিমুখে যোগ দিচ্ছেন।” বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই ঘটনাকে কংগ্রেসের ‘ভণ্ডামি’ বলে কটাক্ষ করেন।

রাহুল গান্ধীর আদানি-নীতিতে কি নরম সুর?

সাংবাদিক আদেশ রাওয়ালের মতে, যদিও রাহুল গান্ধী বহু বছর ধরে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণকে তাঁর রাজনৈতিক বার্তার মূল অংশ করে তুলেছিলেন (বিশেষত হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট এবং অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগের পর), তবে গত কয়েক মাসে কংগ্রেসের কঠোর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

অস্বস্তিকর বিনিয়োগ: এর আগে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর আদানি গ্রুপ সেখানে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি সেই অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে সম্প্রতি তেলেঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিটে গৌতম আদানির পুত্র করণ আগামী তিন বছরে রাজ্যে ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন।

এই ঘটনা একদিকে যেমন শারদ পাওয়ারের সর্বদলীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতাকে প্রমাণ করে, তেমনি কংগ্রেসের আদানি-বিরোধী কৌশলের দুর্বল দিকটিকেও তুলে ধরে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন